- - -

তদারকির অভাবে কৃষক বঞ্চিত, পার্শ্ববর্তী উপজেলায় সার পাচারেরও অভিযোগ

Print News

গৌরনদীতে সরকারি দামের বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ

তদারকির অভাবে কৃষক বঞ্চিত, পার্শ্ববর্তী উপজেলায় সার পাচারেরও অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে খুচরা কৃষকদের কাছে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত সার না পাওয়া এবং গৌরনদীর বরাদ্দকৃত সার পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকি ও বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে কিছু বিক্রেতা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা।

স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, ফসলের মৌসুমে সময়মতো সার না পেলে জমিতে যথাসময়ে প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না। ফলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাদের অভিযোগ, গৌরনদীতে সার সরবরাহের পরও বিভিন্ন সময়ে সার পার্শ্ববর্তী আগৈলঝাড়া এবং মাদারীপুরের কালকিনি-ডাসার এলাকায় চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

কৃষকদের ভাষ্য, সার কৃষি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উপকরণ। তাই সরকার নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার কৃষকের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা জরুরি। সার বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্য অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কৃষকদের আরও অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার পাশাপাশি সার কিনতে গিয়ে অন্যান্য কৃষি উপকরণ কেনার জন্য চাপ দেওয়ার মতো পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও ব্যাপ্তি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এদিকে সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ডিলার নিয়োগ, সার বরাদ্দ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে। কৃষকদের মতে, কোনো ডিলার বা বিক্রেতার বিরুদ্ধে সরকারি মূল্যের অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি কিংবা বরাদ্দের সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা দ্রুত তদন্ত করে আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সার নীতি-২০২৫ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি কৃষকের সংখ্যা, জমির পরিমাণ ও মৌসুমি চাহিদা বিবেচনায় সার সরবরাহ ও বিক্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হোক। এতে প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের ভোগান্তি কমবে এবং সময়মতো সার পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

কৃষকদের প্রত্যাশা, কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকি, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে গৌরনদীর বরাদ্দকৃত সার অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সেকেন্দার শেখের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত ০১৭০০৭১৫৫৭৫ ও ০১৭২৮৯৮৬২৮০ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় প্রতিবেদন প্রকাশের সময় এ বিষয়ে তার তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রচার করা হবে।

কৃষকদের ভাষ্য, ফসলের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ, সরকারি মূল্যে বিক্রি, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিতরণ ব্যবস্থাই এখন সময়ের দাবি।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa