- - -

তজুমদ্দিনে জোড়া মামলায় একই আসামি-সাক্ষী, সরেজমিনে মিলছে ভিন্ন বক্তব্য

Print News

তজুমদ্দিনে জোড়া মামলায় একই আসামি-সাক্ষী, সরেজমিনে মিলছে ভিন্ন বক্তব্য

 

ভোলার তজুমদ্দিনে ওয়ারিশের কাছ থেকে জমি কেনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। দুটি মামলায় একই ব্যক্তিদের আসামি এবং বাদীপক্ষের ঘনিষ্ঠ স্বজনদের সাক্ষী করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। মামলাগুলোকে হয়রানিমূলক দাবি করে প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন তজুমদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী মো. শরীফ হাওলাদার ও তার সহোদররা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ঘোষের হাওয়া গ্রামের বাসিন্দা অলিউল্লাহ ২০২৪ সালে একই গ্রামের অজুফার ওয়ারিশ ইকবাল হোসেনের কাছ থেকে চাঁদপুর মৌজার ১৪৮ নম্বর খতিয়ানের ১০৯৬ নম্বর দাগের ১৮ শতাংশ জমি ১৩৫৫ নম্বর দলিলমূলে ক্রয় করেন। পরে নামজারি ও অনলাইন রেকর্ডের মাধ্যমে জমিটি ক্রেতার নামে নতুন খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। জমি কেনার পর থেকেই শরীফদের পরিবারের সঙ্গে শামসুদ্দিন-কাশেম গংয়ের বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি কেনার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আবুল কাশেম শরীফের দোকানের প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বকেয়া পরিশোধ বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
এরই মধ্যে শামসুদ্দিন বাদী হয়ে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের একটি মারামারির ঘটনা দেখিয়ে তজুমদ্দিন জুডিসিয়াল আদালতে সিআর মামলা নং-০২/২০২৬ দায়ের করেন। মামলায় মো. শরীফ, মো. সোহেল, মো. আরিফ ও তাদের পিতা অলিউল্লাহকে আসামি করা হয়। বাদীর ভাই-বোন ও ভাগিনাকে সাক্ষী করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরবর্তীতে ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে একই এলাকায় আরেকটি মারামারির ঘটনা দেখিয়ে তজুমদ্দিন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর-২০৮/২০২৬ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলাতেও আগের মামলার মতো শরীফ, সোহেল, আরিফ ও অলিউল্লাহকে আসামি করা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে শামসুদ্দিনের ভাই মো. আরিফ, মো. আব্বাস, বোন তাহেরা, লাইজু আক্তার ও ভাগিনা মো. রাসেলকে।

মামলায় উল্লেখ করা ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে আশপাশের বাসিন্দা মো. শাহ আলম, মো. রফিক, আলম সর্দার, মো. ইব্রাহিম, রোকেয়া বেগম ও ময়ফুলসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়।

তাদের কয়েকজন জানান, প্রায় দুই বছর আগে ইকবাল হোসেনের কাছ থেকে জমি বুঝে নিয়ে শরীফরা ভোগদখল করে আসছেন। জমি কেনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় এবং এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় সালিশ হয়েছে।

স্থানীয়দের কয়েকজন দাবি করেন, মামলায় উল্লেখ করা ঘটনাগুলোর সময় তারা ঘটনাস্থলে কোনো মারামারি দেখেননি। এলাকার অনেকেই পরে মামলা দায়েরের বিষয়টি জানতে পারেন। একই বাদী-আসামি ও প্রায় একই ধরনের সাক্ষীদের নিয়ে পৃথক মামলা দায়ের হওয়ায় বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী শামসুদ্দিন বলেন, আমার ফুফু ওই দাগে জমি পাবেন না। তারা জোর-জবরদস্তি করছেন। ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে না। যে ঘটনা ঘটেছে, তা মামলার কপিতে উল্লেখ করেছি।

তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বাজারের ব্যবসায়ী মো. শরীফ হাওলাদার পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। এসআই সুমনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, জমির মালিকানা, দখল এবং মামলায় বর্ণিত মারামারির ঘটনাগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। মামলা হয়রানিমূলক প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa