- - -

ছাইয়ের বর্ণমালা

Print News

ছাইয়ের বর্ণমালা

ফারজানা কবির ঈশিতা
ডিসেম্বর ২০২৫ ইং

দীপু দাশ,তোমার পোড়া চামড়ার উপর দিয়ে
হেঁটে যায় নির্জন সকালের হাওয়া,
তোমার কণ্ঠনালীতে আটকে থাকা শেষ চিৎকার
মৌনতার ভিতর থেকে ডাকে আমাকে,
ঘুমের গহীন কুয়ায় নামিয়ে আনে..যেখানে আলো নেই,
আছে কেবল জ্বলন্ত শব্দের প্রতিধ্বনি।
আমার চোখের সামনে ভেসে বেড়ায়
আয়শা তোমার হাতের শেষ মুঠোয় ধরা ফসলের স্বপ্ন,
আমার দু’হাত অপারগ..শেকলে বাঁধা,
মুক্তির শব্দটা মুখে নিয়ে মারা যায় বারবার।
তোমাদের শরীরের পোড়া কোষগুলো থেকে
একটি করে অক্ষর জন্ম নেয়,
যারা আমার হৃদয়ের দেয়ালে লিখে যায়
অবিশ্বাস, ক্রোধ ও অপারগতার এক গভীর লজ্জার কবিতা।
আমি সেই কবিতা পড়ি নির্জনে,
প্রতিটি শব্দ জ্বলে আমার ভেতরে এক নিরবচ্ছিন্ন অগ্নিদহনে..
চোখ থেকে জল পড়ে না, পড়ে ছাই,
সেই ছাই জমে হতে থাকে নতুন ভিত্তি।
রাতের বুক চিরে যখন জোনাকিরা জ্বলে,
প্রশ্ন জাগে সব আলোই কি প্রতিবাদ?
নাকি আলো হবার আগে ভস্ম হতে হয় পুড়ে ?
তোমাদের ভস্ম মিশে গেছে এই মাটির স্মৃতিতে,
আমি অসহায় এক কবি, যার কলমের কালি শুকিয়েছে,
যার কাগজ পুড়ে গেছে আগুনের ভাষায়।
তবে জেনো এই নিশ্চলতা ভাঙবেই,
এই মৌনতা আকাশ বিদীর্ণ করা কাঁপনে
অপারগতার নদী পার হয়ে উত্তাল হবে..
প্রতিজ্ঞার বিশাল সুনামিতে..!
আমরা তখন গড়বো নতুন এক বর্ণমালা
তোমাদের ছাই ও আমাদের রক্তের সমন্বয়ে,
অক্ষরেরা হবে এক একটি অঙ্গার,
যা জ্বলবে না পুড়িয়ে, আলো দেবে অন্ধকার পথে..!
তোমাদের শেষ নিঃশ্বাসের অসম্পূর্ণ বাক্য,
সম্পূর্ণ হবে লক্ষ কণ্ঠের মেলবন্ধনে,
তোমাদের অগ্নিদগ্ধ ইতিহাস রূপ নেবে ভবিষ্যতের মুক্তির ক্রান্তিতে..।
তোমাদের শরীরের শেষ তাপ থেকে জন্ম নিয়েছে এক শীতল প্রতিজ্ঞা..
আমাদের কাঁপা হাতে গজিয়েছে শেকড়
আমাদের রুদ্ধ কন্ঠে প্রস্তুত হচ্ছে গর্জন।
একদিন এই মাটির নিচ থেকেই উঠবে সেই গান,
যে গানে আমাদের ব্যথা নয় মিশবে বিজয়ের সুর,
তোমাদের নাম তখন নিছক স্মৃতি নয়,হবে সেই চিরন্তন মশাল,
যা নিভবে না কখনো..কোনদিন..!
আমরাই বহন করবো তোমাদের অসম্পূর্ণ প্রভাত,
যার পরিণতি হবে এক সম্পূর্ণ সূর্যোদয়।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa