
চট্টগ্রামে ধানের শীষের ঝড়
১৬ আসনের ১৪টিতে বিএনপির বিজয়
নতুন নেতৃত্বে দিন বদলের ইঙ্গি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম জেলায় বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদলের চিত্র ফুটে উঠেছে। জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতেই বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বাকি দুটি আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ফলাফল শুধু আসনসংখ্যার হিসাব নয়—এটি চট্টগ্রামের ভোটার মনস্তত্ত্বে বড় পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে।
বিএনপির বিজয়ী ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি, তৃণমূলভিত্তিক প্রচারণা এবং স্থানীয় ইস্যুতে সক্রিয় অবস্থান—এই তিন উপাদানকে বিজয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, “চট্টগ্রামে এবার ভোট হয়েছে নেতৃত্বের নবায়ন ও বিকল্প প্রত্যাশার ভিত্তিতে।”
১২ই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যার পর জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষ ও পৃথক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ভোটগ্রহণ ছিল শান্তিপূর্ণ এবং কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম -১ আসনে নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম -২ ফটিকছড়ি আসনে সারোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম -৩ সসন্দ্বীপ আসনে মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম -৪ সীতাকুণ্ড ও চসিক আংশিক মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম ৫ হাটহাজারি আসনে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম ৬ রাউজান আসনে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম ৭ রাংগুনিয়া আসনে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম ৮ চাঁন্দগাও-বোয়ালখালী আসনে এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম ৯ কোতোয়ালি আসনে আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম ১০ ডবলমুরিং- পাহাড়তলী-খুলশী আসনে সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম ১১ বন্দর-পতেংগা আসনে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী,
চট্টগ্রাম ১২ পটিয়া আসনে এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম ১৩ আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনে সারোয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম ১৪ চন্দনাইশ-সাতকানিয়া(আংশিক) আসনে জসীম উদ্দিন আহমদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয় লাভ করেন।
চট্টগ্রামের এই ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নতুন ও পুরনো নেতৃত্বের সমন্বয়ে বিএনপি এখানে শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলেছে—যা আগামী রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
![]()









