- - -

ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ড আতঙ্কে জনশূন্য আটপাড়ার করারদূপ গ্রাম

ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ড
আতঙ্কে জনশূন্য আটপাড়ার করারদূপ গ্রাম

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের করারদূপ গ্রাম এখন কার্যত জনমানবশূন্য। মসজিদের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও একজনের নিহত হওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় শতাধিক পরিবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে করারদূপ গ্রামের মসজিদের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আব্দুর রউফ কাউসার ও মুকুল মিয়ার মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন আব্দুর রউফ কাউসার। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ২৬ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মৃত্যুর পর ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। পরে মরদেহ গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে আটপাড়া থানায় ৫০ জনের নাম উল্লেখসহ ৫ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ২৬ ডিসেম্বর মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে।
মামলার পর একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে অধিকাংশকেই কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় তিনজন জামিন পেলেও বর্তমানে ওই গ্রামের অন্তত ৪২ জন কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আসামিপক্ষের প্রায় তিন শতাধিক মানুষ হামলার আশঙ্কায় গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। ফলে পুরো গ্রামটি কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাদী ও বিবাদীপক্ষের মনির মিয়া, জামাল, ইকবাল, ইসলাম উদ্দিন ও আল আমিনের বাড়িসহ এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক কাঁচা ও পাকা ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের চিহ্নে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে আছে। এ সময় এলাকায় ঘর রক্ষার নামে বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে।
বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মনির মিয়া বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫ থেকে ৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে আটপাড়া থানায় পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে আটপাড়া থানার ওসি জোবায়দুল আলম বলেন, “ঘটনাটি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। উভয় পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছুদিন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কয়েকজন আসামি জামিনে আছেন, বাকিরা কারাগারে রয়েছেন।”

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn

শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান ফেন্সিডিল ও মোটরসাইকেল জব্দ মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ ​চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থেকে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়েছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। এসব অভিযানে ৫০ বোতল ফেন্সিডিল ও একটি চোরাই মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।​বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই দুটি অভিযান পরিচালিত হয়। ​প্রথম অভিযান (চকপাড়া বিওপি): সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল ০৬:৫০ মিনিটে চকপাড়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের নামোচকপাড়া গ্রামে (সীমান্ত পিলার ১৮৩/৩-এস হতে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে) অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে এক মোটরসাইকেল আরোহী পালিয়ে গেলেও মালিকবিহীন ১টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়।​দ্বিতীয় অভিযান (আজমতপুর বিওপি): একই দিন সকাল ০৮:৫০ মিনিটে আজমতপুর বিওপির আরেকটি বিশেষ টহল দল শাহবাজপুর ইউনিয়নের উপচকপাড়া গ্রামস্থ পাকা রাস্তায় (সীমান্ত পিলার ১৮২/২-এস হতে আনুমানিক ৮০০ গজ অভ্যন্তরে) অভিযান চালায়। এই অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৫০ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করা হয়। ​উভয় অভিযানে জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ও মোটরসাইকেলের আনুমানিক বাজার মূল্য ১,৪০,০০০ (এক লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা। জব্দকৃত মালামালের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। ​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি বলেন, “বিজিবি দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং সকল প্রকার চোরাচালান রোধে বিজিবি’র এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

Su Mo Tu We Th Fr Sa