
আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের Deen নার্গিস আহমেদ উপস্থিতে এপিজে আব্দুল কালাম ইসলামিক ইন্সটিটিউশনের শিলান্যাস শুভ সূচনা
পশ্চিমবঙ্গের একটি অন্যতম সংখ্যালঘু বিশ্ববিদ্যালয় হল আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।১৭৮১ সালে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির তদনীন্তন গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস কলকাতা মোহামেডান কলেজ নামে এই প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা করেন। আরবি, ফারসি, ইসলামি ধর্মতত্ত্ব ও আইন পঠনপাঠনের উদ্দেশ্যে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৭ সালের পর এই কলেজে বাংলায় পঠনপাঠন শুরু হয়। দক্ষিন ২৪পরগনা জেলার ফলতা থানার ফলতা ব্লকের শতল কলসা (নীলাম্বরপুর ছাউনির মাঠে )আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় অনুকরণে আসলাম মন্ডলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও ডাঃ মেহবুব রহমান এবং মারুফা খাতুনের উদ্দগ্যে ফলতায় নীলাম্বরপুর ছাউনির মাঠে মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের কথা চিন্তা করে আজ আসলাম মন্ডল তার মনের আশা আকাঙ্ক্ষা এবং সংখ্যালঘুদের পাশে সদাসর্বদা আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার লক্ষ্যে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের Deen নার্গিস আহমেদ উপস্থিতে , বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এবং নার্গিস আহমেদ হাত দিয়ে এ পি জে আব্দুল কালাম ইসলামিক ইনস্টিটিউশনের শুভ শিলারন্যাসের সূচনা করেন।
আব্দুল কালাম ইসলামিক ইনস্টিটিউশনের শুভ সূচনা পর্ব কালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের Deen নার্গিস আহমেদ বলেন শিক্ষা হল মানুষের জীবনের মেরুদন্ড। বর্তমান আমাদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শিক্ষার ভাগ খুবই কম।যেমন আমি একটি উদাহরণ দিলে আপনারা বুঝতে পারবেন। আমরা যদি কোন একটি হসপিটালে যাই সেখানে আমরা লক্ষ্য করে দেখতে পাই সারা হসপিটাল যদি তদন্ত করি একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবিক ডাঃ দেখতে পাবোনা। তেমনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তেমনি চিত্র আমরা লক্ষ্য পাই। তাই আমি খুবই খুশি এবং আনন্দিত হলাম আসলাম মন্ডলের এমন একটি সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্দগ্যে আমি আসলাম মন্ডল কে অসংখ্য ধন্যবাদ অভিনন্দন জানাই।আমি সবাইকে কে আমার অন্তরে অন্তঃস্থল থেকে আপনাদের কাছে অনুরোধ রাখলাম আসলাম মন্ডল যে উদ্দগত্যা মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিবারের পাশে থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের উচ্চ মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন আমরা সবাই তাহার এই মহতী উদ্যোগের পাশে থেকে তাকে আরো বেশী উদ্দগী সাহায্য করতে থাকবো। সেই সঙ্গে সঙ্গে আমরা জীবন দিয়ে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সহযোগিতায় করবো এবং সদাসর্বদা আমরা এই প্রতিষ্ঠানের পাশে থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব সহকারে পালন করবো। এ পি জে আব্দুল কালাম ইসলামিক ইনস্টিটিউশনের কর্ণধার আসলাম মন্ডল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন আমার শিক্ষার যোগ্যতা তেমন নেই।আমার দীর্ঘ দিনের মনের আশা আকাঙ্খা ছিল আমি একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিবারের পাশে থেকে আমার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভাইবোন সমাজের পিছিয়ে পড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যে ভাবে নির্যাতন,নৃপিত, অত্যাচারিত হচ্ছে সেই কথা মাথায় রেখে আমি এই কাজে উদ্দগী হয়েছি।আমার এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমি HS পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্রিতে বাংলা ইংরেজি তার পাশাপাশি ইসলামিক কালচারাল উপর শিক্ষার প্রসার ঘটানো শুধু তাই নয় আমার এই প্রতিষ্ঠান থেকে আমি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিশিষ্ট শিক্ষক, বিশিষ্ট ডাঃ, উকিল, মোক্তার, হাকিম, ইন্জিনিয়ারিং,পাইলট, তৈরি করে আমার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে সমাজের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে সেই রকম উদ্দগ আমি নিয়েছি।
তিনি আরো বলেন
ইংলিশ মিডিয়াম তার সঙ্গে ইসলামিক শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হবে।প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার আসলাম মন্ডল বলেন, সমাজে মুসলিমরা অনেক পিছিয়ে তার কারণ হলো শিক্ষার অভাব, ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজে পরিবর্তন আনতে হবে।
এইরকম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমাজে বেশি বেশি তৈরি করে মুসলিম সমাজের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। তিনি সবাইকে এই রকম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে সদাসর্বদা থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন।
ডাক্তার মেহবুব রহমান বলেন আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে যদি সংখ্যালঘুরা বুঝতে পারে, কারণ তাদের সন্তান মানুষ হবে, উচ্চ শিক্ষা পাবে এবং আদর্শ নিয়ে বাঁচতে পারবেন l
সাংবাদিক সমাজকর্মী দীপক বেপারী বলেন, মাদ্রাসাতে যে জঙ্গি তৈরি হয় তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর l রাজ্যের অনেক মাদ্রাসায় গিয়ে অনুসন্ধান করেছিl কিন্তু সন্ত্রাস তৈরীর সামান্য টুকু গন্ধ পায়নি l রাজনীতিকে ব্যবহার করার শিক্ষা নিতে হবেl বিজেপি আরএসএস যেভাবে দাঙ্গা বাধানোর চক্রান্ত করছে সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবেl ওদের চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিতে হবেl
শিক্ষারত্ন প্রাপ্ত নুরনবী জমাদার বলেন, শান্তিনিকেতনের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবেl ঝিনুকের মধ্যে যেমন মুক্ত থাকে, তেমনি এই এলাকার মধ্যে মুক্ত হলেন আসলাম মন্ডলl তাছাড়া কয়লার মধ্যে যেমন হীরে থাকে, ডায়াবেটিস রোগীরা যে সেকারিন ব্যবহার করে তারা এই কয়লা থেকে তৈরি হয়l
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক আজিজুল হকl
বিশিষ্টদের উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী আব্দুল আলিম মোল্লা, সাবেক কেন্দ্রীয় পুলিশ অফিসার শেখ ইউনুস, ছাত্রনেতা আব্বাস উদ্দিন সরদার, মাসুদুর রহমান সরদার, সমাজসেবী শাজাহান লস্কর প্রমূখl
![]()









