
পার্বত্য অঞ্চলের কোনো শিক্ষার্থীই যেন অর্থনৈতিক সংকটে ঝরে না পড়ে: খাগড়াছড়িতে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়ন এবং শিক্ষাবঞ্চিত অঞ্চলের মানুষদের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং তিন পার্বত্য জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।
গতকাল বুধবার খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত শিক্ষা বৃত্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী এবং নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা প্রসারে সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাই একটি জাতির উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। অর্থনৈতিক টানাপোড়েন কিংবা আর্থিক সংকটের কারণে পাহাড়ের কোনো শিক্ষার্থী যাতে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়ে, সে লক্ষ্যে সরকারের শিক্ষা সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও যোগ করেন, পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অনগ্রসরতা দূর করে প্রান্তিক মানুষের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গৃহীত বিশেষ উদ্যোগগুলো অঞ্চলজুড়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা সূচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার বিকাশ এবং নারীদের আত্মকর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে নানামুখী সরকারি সুবিধা ও প্রকল্প সরাসরি প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান পার্বত্য, ভূমি ও তিন পার্বত্য জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল।
উন্নয়ন বোর্ডের এই আয়োজনে খাগড়াছড়ি জেলার ৭৭৮ জন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে মোট ৯২ লাখ ৫ হাজার টাকার শিক্ষা বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪৯৩ জন কলেজ শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে এবং ২৮৫ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
পাশাপাশি, প্রান্তিক এলাকায় আধুনিক ও ডিজিটালাইজড শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার অংশ হিসেবে জেলার ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া, নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যমাত্রার প্রথম ধাপে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ১০ জন নারীর হাতে সেলাই মেশিন হস্তান্তর করা হয়। পর্যায়ক্রমে জেলার ৯টি উপজেলার মোট ৯০ জন সুবিধাবঞ্চিত নারীকে সেলাই মেশিন ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের (রাঙ্গামাটি) ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংবাদিক ও জনসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া।
উক্ত অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
![]()









