
চট্টগ্রামে খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তুলতে ৪১ ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠের উদ্যোগ, পর্যায়ক্রমে ৮২টি মাঠ গড়ার পরিকল্পনা: প্রশাসক ডা. শাহাদাত

মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গড়তে তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে হবে
চট্টগ্রাম নগরীতে খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে ৮২টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন চসিকের মাননীয় প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) নগরীর আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠ ও কয়েকটি সড়ক উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসক বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নিয়েছি, সেটি বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে ১১টি খেলার মাঠ প্রস্তুত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও মাঠ গড়ে তুলে এই সংখ্যা ৮২টিতে উন্নীত করতে চাই।”
আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ৯৯ কাঠা আয়তনের এই জায়গাটির বাজারমূল্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। এখানে চাইলে বহুতল ভবন কিংবা প্লট তৈরি করে বিপুল অর্থ আয় করা সম্ভব ছিল। কিন্তু নগরবাসীর সুস্থ বিনোদন, শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি এবং একটি সুন্দর সমাজ গঠনের স্বার্থে জায়গাটিকে খেলার মাঠ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি মাঠটি বাস্তবায়নে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চেয়ারম্যান শরিফ জহির এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মঞ্জুর রশিদের আন্তরিক সহযোগিতা ও উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি মাঠটির উন্নয়নকাজে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সংগঠক, কর্মকর্তা এবং এলাকাবাসীর অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমরা মাদক চাই না, সন্ত্রাস চাই না, চাঁদাবাজি চাই না, কিশোর গ্যাং চাই না। শুধু মুখে এসবের বিরুদ্ধে কথা বললে হবে না। তরুণদের জন্য খেলাধুলার উপকরণ এবং বিনোদনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। তাদের মাঠ দিতে হবে, খেলার সুযোগ দিতে হবে। তাহলেই তারা অপরাধের পথ ছেড়ে সুস্থ ও সুন্দর জীবনের দিকে এগিয়ে আসবে।”
তিনি আরও বলেন, সুস্থ দেহ ও সুন্দর মনের জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলা মানুষের মন ভালো রাখে, শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে। খেলাধুলার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তন, নগরীর ইতিবাচক রূপান্তর এবং একটি সুন্দর রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখা সম্ভব।
প্রশাসক জানান, হালিশহর এইচ ব্লক, ফিরোজশাহসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খেলার মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদারবাড়ি বালির মাঠ, বাকলিয়া স্টেডিয়াম, বাকলিয়া স্কুল মাঠ, পাহাড়তলী খেলার মাঠ, মহসিন কলেজ মাঠ, প্যারেড মাঠ, আমবাগান মাঠ ও পাহাড়তলী কলেজ মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে মাঠ উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এসব মাঠ পর্যায়ক্রমে উদ্বোধন করা হবে।
তিনি বলেন, খেলার মাঠ উন্নয়নের পাশাপাশি ফুটসালসহ আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতায় নগরীর তরুণ প্রজন্মের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠের উন্নয়নকাজের বিবরণ তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, মাঠে ইতোমধ্যে স্টেডিয়াম, গ্যালারি, ড্রেসিং রুম, ওয়াশরুম ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ফ্লাডলাইট ও ফেন্সিংয়ের ব্যবস্থাও করা হবে।
মাঠটির যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “শুধু মাঠ তৈরি করে দিলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। এই মাঠকে সুন্দর ও নিরাপদ রাখতে হবে। এখানে যাতে মাদকাসক্ত কিংবা অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিরা আড্ডা জমাতে না পারে, সেদিকে এলাকাবাসী, ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নজর রাখতে হবে। যে উদ্দেশ্যে মাঠটি তৈরি করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব। নতুন প্রজন্মের জন্য খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে একটি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। করব কাজ
গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ,
![]()









