- - -

সম্প্রীতির বন্ধনে গড়ে উঠুক একটি সুন্দর বাংলাদেশ : ডা. শাহাদাত হোসেন

img 20261106 wa0161
Print News

বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান

সম্প্রীতির বন্ধনে গড়ে উঠুক একটি সুন্দর বাংলাদেশ : ডা. শাহাদাত হোসেন

বর্ণ বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই : সাঈদ আল নোমান

চট্টগ্রাম নগরীকে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের জন্য নিরাপদ, সুন্দর ও সম্প্রীতির নগরীতে পরিণত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। আমি এমন একটি রংধনু শহর গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সব ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষ মিলেমিশে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবেন।

তিনি বলেন, নগরীকে ‘গ্রিন, হেলদি অ্যান্ড সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। একটি শহর তখনই প্রকৃত অর্থে সুন্দর ও বাসযোগ্য হয়ে ওঠে, যখন সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন, নিজেদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করেন এবং সমান নাগরিক অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৩১ দফার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিপূর্ণ নগর গড়ে তোলার প্রত্যাশা রয়েছে। এমন একটি শহর গড়ে তুলতে চান, যেখানে ধর্ম, বর্ণ কিংবা মতের ভিন্নতা কখনো মানুষের অধিকার ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

তিনি আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর জিইসি মোড়স্থ জিইসি কনভেনশনে বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি (বাগীশিক) কেন্দ্রীয় সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেছেন, বৈচিত্র্যের মাঝে আমাদের সম্প্রীতি এবং সেই সম্প্রীতিই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আর সেই সম্প্রীতি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি দ্বিধাহীন চিত্তে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনেরা আমাদের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন। সেই আস্থার মর্যাদা রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজায় চট্টগ্রাম এসেছেন।

তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এটি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও আচরণে নৈতিক ও মরালমূলক প্রশিক্ষণ দেয় এবং তাদের সঠিক মানসিক উন্নয়নে সহায়তা করে। বর্ণ বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই।
বাগীশিক কেন্দ্রীয় সভাপতি ঝুন্টু চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. অঞ্জন কুমার দাশ ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক পলাশ কান্তি নাথ রণীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আশীর্বাদক ছিলেন পাঁচরিয়া তপোবন আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী রবীশ্বরানন্দ পুরী মহারাজ।

উদ্বোধক ছিলেন বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের উপদেষ্টা তিনকড়ি চক্রবর্তী। মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন করেন বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের উপদেষ্টা শিবু প্রসাদ দত্ত। মহান অতিথি ছিলেন বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের উপদেষ্টা ও মনস্বী শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হারাধন নাগ।

সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, একুশেপদক প্রাপ্ত বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. হরিশংকর জলদাস ও প্রথিতযশা চিকিৎসক প্রফেসর ডা. বিনয় পাল। নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের শপথবাক্য পাঠ করান বাগীশিক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কর্মবীর দিলীপ কুমার ভট্টাচার্য্য। গীতা ভাণ্ডারের দ্বারোদ্ঘাটন করেন কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা সাধন দাশ। পাঠ্যক্রমের মোড়ক উন্মোচন করেন উপদেষ্টা বাবুল ঘোষ বাবুন। স্মরণিকা ‘জ্যোতি’র মোড়ক উন্মোচন করেন উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সুনির্মল রায়।

বিশেষ অতিথি ছিলেন অভয়মিত্র মহাশ্মশান পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ প্রিয় পাল, বাগীশিক উপদেষ্টা অধ্যক্ষ বিজয় লক্ষ্মী দেবী, অ্যাড. প্রবীর কুমার ভট্টাচার্য্য, লায়ন দিলীপ কুমার শীল, লায়ন শম্ভু দাশ, অধ্যাপক কৃষ্ণা দাশ, চিত্রালী রায়, কৃষ্ণা চৌধুরী, রাজীব দাশ, দেবব্রত দাশ, দীপেন সাহা, প্রফেসর ড. সুদীপা দত্ত, অধরলাল চক্রবর্তী, অ্যাড. কবিশেখর নাথ পিন্টু, অধ্যাপক বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী, অমৃত লাল দে, বিপুল বিহারী হালদার, প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন, শংকর কুমার সাহা। বিশেষ বক্তা ছিলেন বাগীশিক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শুভাশীষ শর্মা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অভিষেক উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাড. প্রণব কুমার মজুমদার ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন অভিষেক উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব অরুণ কান্তি মল্লিক।

বক্তব্য রাখেন বাগীশিক ঢাকা জেলার আহবায়ক নিখিল রঞ্জন রায়, ঢাকা মহানগরের সভাপতি ড. দিলীপ কুমার শর্মা, বাগেরহাট জেলার সহ-সভাপতি তুষার কান্তি বিশ্বাস, সিলেট জেলার ডা. মালা রানী দে, পঞ্চগড় জেলার সহ-সভাপতি ধীরেন্দ্র নাথ রায়, লালমনিরহাট জেলার সুদাম চন্দ্র রায়, নাটোর জেলার বিপুল রায়, টাঙ্গাইল জেলার সুশান্ত কুমার পাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব চন্দ্র সাহা (বাপ্পী), মাদারীপুর জেলার সহ-সভাপতি গৌরাঙ্গ বসু, বরিশাল জেলার বিপুল বিহারী হালদার, চাঁদপুর জেলার সভাপতি ডা. বিধান চন্দ্র দাশ, ফেনী জেলার সভাপতি ইঞ্জিঃ চঞ্চল দে সরকার, নোয়াখালী জেলার সভাপতি পূর্ণেন্দু শেখর পাল, লক্ষ্মীপুর জেলার অ্যাড. শিল্পী পাল, কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক সজল ধর, খাগড়াছড়ি জেলার শিউলী বিশ্বাস, রাঙ্গামাটি জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর পাল, চট্টগ্রাম মহানগর সংসদের সভাপতি প্রকৌশলী সঞ্জয় চক্রবর্তী মানিক, উত্তর জেলা সংসদের সভাপতি লায়ন শুভাশীষ চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা সংসদের সভাপতি পুলক চৌধুরী, রংপুর জেলার দীপংকর ভট্টাচার্য্য, সুনামগঞ্জ জেলার অশোক কুমার দে প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাউল শিল্পী রথীন মিত্র ও কণ্ঠশিল্পী রীমা দাশ। গীতি নৃত্যনাট্য পরিবেশণ করেন হৃদিতা দাশ পূজা ও তাঁর দল। সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন বাগীশিক সাংস্কৃতিক ফোরাম, সিটিবি কালচারাল স্কুল, বাগীশিক রাউজানের টিম রণচণ্ডী, দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ নারীশক্তির জাগরণ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অভিষেক অনুষ্ঠান কেবল একটি আনুষ্ঠানিক পরিচিতি বা দায়িত্ব গ্রহণের আয়োজন নয়; বরং এটি বাগীশিকের সাংগঠনিক অগ্রযাত্রা, নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ, ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ়করণ এবং গীতার শিক্ষা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ্য। বাগীশিক’র কার্যক্রম বর্তমানে সারাদেশের প্রায় ৫৪টি জেলায় বিস্তৃত। যেখানে প্রায় ৮ হাজার গীতা স্কুলের প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থী ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা লাভ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড তথা মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি, প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও অগ্নিদূর্গতদের সহায়তা, কন্যা দায়গ্রস্ত পিতাদের আর্থিক সহায়তা, বৃক্ষরোপণ, জাতীয় দিবস উদযাপন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধকল্পে প্রচারণা, মন্দিরভিত্তিক বিবাহ ও স্বাত্বিক পূজা নিশ্চিতকরণের মতো কর্মকান্ড নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে সংগঠনের পক্ষ থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa