
৯১ তম বর্ষে চোরবাগান দুর্গোৎসব পূজা মন্ডবে পদপৃষ্ট হয়ে ২৫ জনের মৃত্যু
আজ ১৭ ই অক্টোবর শনিবার, চোরবাগান পুজো মন্ডপের দুর্ঘটনায় ২৫ জনের মৃত্যু ঘটে, সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ বৃষ্টি নামায়, পূজ মণ্ডপে মন্ডপে ভিড় জমে যায়, আর সেই মুহূর্তেই ঘটে যায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা, দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবারের মধ্যে কান্নার রোল ভেসে ওঠে।
কাহাদের গাফিলতির ফলে এত বড় দুর্ঘটনা প্রথম ঘটলো দুর্গোৎসবে, এর আগে কখনো এইরকম দুর্ঘটনা ঘটেনি, দুর্গোৎসবে অনেক মায়ের কোল খালি করে দিল,
আজকের দুর্ঘটনা কে কেন্দ্র করে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিভিন্ন প্রসঙ্গ উঠে আসে, উঠে আসে প্রশাসনের বিরুদ্ধেও, এমনকি পুজো কমিটির কর্তাদের বিরুদ্ধে,
পুজো কমিটিতে যুক্ত ছিলেন জোড়াসাঁকর বিধায়ক বিজয় ওঝা, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো দেবদ্বীপ অধিকারী, বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ সহ অন্যান্যরা। এই পুজোয় আগের কমিটির সদস্যদের বাদ দিয়ে জানা যায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
আজকের দুর্ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন তাদেরকে এসএস কে এম হসপিটালে স্থানান্তরিত করা হয়, মৃতদের মধ্যে ছিলেন তিনজন পুরুষ একজন শিশু ও ১৩ জন মহিলা।
ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য নেতারা, উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, তুই ছিলেন আশুতোষ চ্যাটার্জি, মোঃ সেলিম, এবং খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছান মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তবে কোন রাজনৈতিক এর রং দেখিয়ে নয়, সকল দলের কর্মীরা সাথে সাথে ঝাঁপিয়ে পড়েন উদ্ধারকার্যে, কিন্তু এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন,দোশীদের গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছেন, প্রশাসনের গাফিলতির কথা বারবার উল্লেখ করেছেন, তাহারা বলেন একটা বইয়ের স্টল ভাঙ্গার জন্য বুলডোজার নিয়ে হাজির হয়, কিন্তু ভিড় সামলানোর জন্য প্রশাসন নির্বিকার, তারা বলেন প্রশাসনের অফিসারের চাইতে হলুদ গেঞ্জির ভলেন্টিয়ার বেশি,
তাহারা আরো বলেন, শুধু চোর বাগান নয়, অনেক নামী পূজো মণ্ডপেও চরম অবস্থার ছবি ধরা পড়েছে।
যাহারা প্রাণ হারিয়েছেন এই ঘটনায়, সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়, তাহাদেরকে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে দু লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা করা হবে, আহতদের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
আজ সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করে, উৎসাহ মেডিকেল কলেজে পৌঁছালেন।
আজকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু অভিযোগ উঠে আসে, আপনারা বলেন চোরবাগানের দায় কার, পুজো কমিটির কর্মকর্তারা কোথায়, কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হবে না, বাড়তি ভিড় দেখাতে কি কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল, সমস্ত কিছু নিরপেক্ষ তদন্ত চাই, এবং মৃতদের নামও পরিচয় প্রকাশ করতে হবে, কেন পর্যাপ্ত পুলিশ না দিয়ে গেরুয়া ভলেন্টিয়ার নিয়োগ করা হয়।
তবে আজকের ঘটনায় সমস্ত দলের পক্ষ থেকে পরিবারকে সহানুভূতি এবং যাদের প্রাণ গিয়েছেন তাদের আত্মার প্রতি শান্তি কামনা করেন। মৃত্যু মিছিল কে ঘিরে সারা এলাকায় কান্নার রোল ভেসে ওঠেছে, খবর পড় সাথে সাথে তড়িঘড়ি পরিবারের মানুষজন ছুটে আসছেন পুজো প্যান্ডেলে। অনেকে চোখের সামনে বন্ধুকে হারিয়ে যেতে শোকে স্তব্ধ। আজকের ঘটনায় পুজোর আনন্দ অনেকটা ম্লান হয়ে পড়লো।
![]()









