- - -

হাম: সচেতনতা ও স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে গ্রামীণ সমাজে নিরাপত্তা।

Print News

হাম: সচেতনতা ও স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে গ্রামীণ সমাজে নিরাপত্তা

 

গ্রামীণ বাংলাদেশে প্রতিটি ঋতু মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকির নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। সম্প্রতি দেশে হাম রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে-যা শিশু ও বয়স্কদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

যদিও আমাদের দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার মতো কিছু অঞ্চলে এখনো কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি, তথাপি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংক্রমণের খবর পেলে গ্রামীণ মানুষ অতি সতর্ক হয়ে উঠছেন।

ছোটখাটো উপসর্গও যেমন জ্বর, সর্দি-কাশি বা ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দিলে তারা চিকিৎসকের কাছে ছুটছেন। এটি ইতিবাচক সচেতনতাকে নির্দেশ করছে। তবে এই সচেতনতা কেবল আতঙ্কের ভিত্তিতে নয়, বরং সঠিক তথ্যের আলোকে হওয়া প্রয়োজন।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যার প্রাথমিক লক্ষণগুলো সহজে সনাক্ত করা সম্ভব। মুখের ভেতরে সাদা দানা বা ‘কপলিক স্পট’, কানের পেছন থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে লালচে-বাদামি ফুসকুড়ি-এইসব লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। গ্রামের মানুষদের উচিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে সঠিক তথ্য ও পরামর্শ নেওয়া এবং আতঙ্ককে সাময়িকভাবে দায়িত্বহীন আচরণে পরিণত না করতে।

এ ক্ষেত্রে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য অব্যাহতভাবে কাজ করছেন। কিন্তু সেখানেই রয়েছে এক বড় চ্যালেঞ্জ-গ্রামের মানুষদের ঘরে ঘরে পৌঁছানো, সহজ ভাষায় রোগ ও প্রতিরোধের তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং ভীত না করে শিক্ষিত পরামর্শ দেওয়া।

চিকিৎসকেরা যদি সক্রিয়ভাবে গ্রামীণ জনগণের পাশে দাঁড়ান, তা শুধুমাত্র আতঙ্ক কমাবে না, বরং রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রাথমিক সুরক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণ রোধেও সহায়ক হবে। তাই গ্রামীণ জনগণকে অনুরোধ করছি-অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কে নিজে বা শিশুদেরকে হাসপাতালে ভিড়াতে হড়বড় করবেন না।

রোগের লক্ষণ চিনে নিন, সঠিক তথ্য জানুন এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকরা যেন গ্রামীণ মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও উদ্যোগী হন।

আমাদের সচেতনতা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দায়িত্বশীল আচরণ মিলিয়ে এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ সমাজকে নিরাপদ রাখা সম্ভব। আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও প্রস্তুতি-এটাই আমাদের মূল অস্ত্র।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa