
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শ্মশানের জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ফটিকছড়ি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর রাঙ্গামাটিয়া এলাকার নিখিল ডাক্তারের বাড়ির পাশে।
এ ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বঙ্কিম চন্দ্র নাথ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে শ্মশানের জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখতে পুলিশ নোটিশ দেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৮০ বছরের পুরোনো এই শ্মশানে বঙ্কিম নাথের পরিবারের সদস্যসহ আশপাশের এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মরদেহ সৎকার করা হয়। সেখানে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, জমিটি দখল হয়ে গেলে এলাকায় মরদেহ সৎকারে সমস্যা দেখা দেবে।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি থানা থেকে উভয় পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়। বাদীপক্ষে রয়েছেন উত্তর রাঙ্গামাটিয়ার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত নিখিল চন্দ্র নাথের ছেলে বঙ্কিম চন্দ্র নাথ। বিবাদীপক্ষে রয়েছেন দক্ষিণ কাঞ্চননগর নোয়াতপাড়ার জানে আলমের ছেলে শফিউল আলমসহ কয়েকজন।
বাদী বঙ্কিম চন্দ্র নাথ বলেন, জমিটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে এটি শ্মশান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাঁর অভিযোগ, ভূমিখেকো একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে জমিটি নিজেদের দাবি করে আসছে এবং দখলের জন্য বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জমি রক্ষায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ফৌজদারি আদালতে একটি মিস মামলা করা হয়েছে। আদালত শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। মামলায় পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে অভিযুক্তরা রাতের আঁধারে ভেকু দিয়ে মাটি ভরাট করে এবং পাকা ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে থানা প্রশাসন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে আবারও ওই জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন অভিযুক্ত শফিউল আলম।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফটিকছড়ি থানার পিএসআই মো. ইমাম হোসেন বলেন, “উভয় পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে কেউই তাতে সাড়া দিচ্ছে না।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর ফটিকছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল। অভিযুক্ত শফিউল আলম বলেন, “এটি আগে শ্মশান ছিল। আমরা জায়গাটি সংস্কার করে দেব।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ফটিকছড়ি উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন কান্তি দে বলেন, “এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রশাসন বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান দেবে বলে আশা করছি।”
![]()









