- - -

ধানমন্ডি ৩২ ধ্বংস—এটি ইতিহাস হত্যার রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধ

Print News

ধানমন্ডি ৩২ ধ্বংস—এটি ইতিহাস হত্যার রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধ

— মো. মফিজুর রহমান

বাংলাদেশ রাষ্ট্র আজ এক ভয়ংকর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
যেখানে অপরাধীরা রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে, যেখানে স্বাধীনতা বিরোধীরা রাষ্ট্রযন্ত্র দখলে নিয়ে ইতিহাসকে মুছে ফেলছে, যেখানে জনগণকে শেখানো হচ্ছে-“তোমাদের অতীত ভুলে যাও, নতুন দাসত্ব মেনে নাও।” ঠিক এই সময়েই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সেই ঐতিহাসিক বাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়া হলো, ভেঙে ফেলা হলো, বুলডোজারের নিচে চূর্ণ হলো বাঙালির গৌরব, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ।
এটি কেবল স্থাপনা ধ্বংস নয়—এটি জাতির পিতাকে দ্বিতীয়বার হত্যা করা। এটি স্বাধীনতার মনোবল ভাঙার অপারেশন। এটি বাংলাদেশকে পাকিস্তানি মানসিকতার দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এই ধ্বংস কোনো ভুল নয়—এটি একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক মিশন
আজকের অবৈধ, অগণতান্ত্রিক শাসকেরা
বুঝতেই পারেনি যে ৩২ নম্বর ধানমন্ডি শুধু একটি বাড়ির ঠিকানা নয়—এটি আধুনিক বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মশিরা।
যারা এই বাড়ির ওপর আগুন ধরিয়েছে, যারা বুলডোজারের দাঁত বসিয়েছে, তারা স্পষ্টভাবে জানে—
দেশকে দখলে রাখতে হলে প্রথমে ইতিহাস ভাঙতে হয়। জনগণের স্মৃতি ভাঙতে হয়। স্বাধীনতার প্রতীক ভাঙতে হয়। এটাই আজকের অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতাধারী তথাকথিত “নোবেলজয়ী” প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের
রাজনৈতিক দর্শন— বাঙালির স্মৃতি মুছো, সাজানো নতুন ইতিহাস শোনাও। একজন নির্বাচিত নন এমন শাসকের হাতে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ তুলে দিলে যে বিপর্যয় ঘটে—
ধানমন্ডি ৩২ আজ তার জ্বলন্ত প্রমাণ। কিসের এত ভয় ছিল ৩২ নম্বরকে? কারণ এই বাড়ি বাঙালিকে শক্তি দেয়।
এই বাড়ি বাঙালিকে মনে করিয়ে দেয়— আমরা কারা, কেন লড়েছি, কার নেতৃত্বে লড়েছি। একটি জাতিকে দুর্বল করতে চাইলে তার স্মৃতি প্রথমে লক্ষ্যবস্তু হয়।
হিটলার যেমন বই পোড়াতো, পাকিস্তানিরা যেমন বাঙালি সংস্কৃতিকে দমন করেছিল, আজ সেই একই নীল নকশা অনুসরণ করছে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন ছদ্ম-উদারপন্থী, নব্য-দালালশ্রেণি। তারা ভয় পায় বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি, ভয় পায় তার ঐক্যের ডাক, ভয় পায় তার গণমানুষের বিপ্লবী চেতনা, ভয় পায় তার অমর আদর্শ—
কারণ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মানে জনগণের ক্ষমতা।
আর জনগণের ক্ষমতা মানেই অবৈধ শাসকদের পতন।
৩২ নম্বর ধ্বংস—এটি মূলত স্বাধীনতার প্রতীক ভাঙা
এই আগুনের লক্ষ্য ছিল— বাঙালির আত্মবিশ্বাস ভাঙা
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা,জাতির পিতার স্মৃতি মুছে দেওয়া,ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করা,রাষ্ট্রীয় টেররিজমকে বৈধতা দেওয়া,দেশকে নতুন দাসত্বে ঠেলে দেওয়া,এটি কোনো দুঃসাহস নয়; এটি একটি উদ্দেশ্যমূলক রাষ্ট্রবিরোধী অপারেশন। জাতি আজ চিৎকার করে বলতে বাধ্য—সরকার যা করেছে, তা পাকিস্তানও করতে সাহস পেত না। জাতি একদিন জবাব নেবে—ইতিহাস কখনো ক্ষমা করে না,আজ যারা ক্ষমতায় বসে,৩২ নম্বর ধানমন্ডিকে ছাই বানিয়েছে,
তারা হয়তো ভাবে— “সব শেষ। জনগণ ভুলে যাবে।”
কিন্তু তারা জানে না— ইতিহাসের স্মৃতি আগুনে পোড়ে না,
বুলডোজারে মুছে যায় না। একদিন আদালতে নয়,
জনতার রাস্তায়, রক্তে, চেতনায়, দৃষ্টিতে—সবাইকে জবাব দিতে হবে। কেন ৩২ নম্বর পুড়ল? কার অনুমতিতে ধ্বংস হলো? কারা নির্দেশ দিল? কেন স্বাধীনতার প্রতীককে নিশানা করা হলো? কেন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকে ভয় পেলেন?
কেন ইতিহাস হত্যা হলো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে? এই প্রশ্নগুলো ইতিহাসের কোর্টে অপেক্ষা করছে। আর ইতিহাসের আদালত কখনো রায় ভুল করে না। সবশেষে—৩২ নম্বর ধ্বংস নয়, বাঙালি আরও শক্তিশালী হয়েছে যারা ভাবছেন ধ্বংস করলে ইতিহাস মুছে যাবে—
তারা ভয়াবহ ভুল করছেন। ৩২ নম্বর আজ ধুলায়, ভস্মে—
কিন্তু বাঙালির হৃদয়ে এটি আজ আগের চেয়ে
আরও বড়, আরও শক্তিশালী, আরও উজ্জ্বল।
বুলডোজার ভেঙেছে ইট; কিন্তু ভাঙতে পারেনি চেতনা।
পুড়েছে কাঠ; কিন্তু পুড়েনি স্মৃতি। ধ্বংস হয়েছে স্থাপনা;
কিন্তু জন্ম নিয়েছে প্রতিবাদ। ৩২ নম্বর ভাঙা মানে—
বাংলাদেশের ওপর যুদ্ধ ঘোষণা। আর এই যুদ্ধে বাঙালি শেষ পর্যন্ত নীরব থাকবে না। ইতিহাসকে যারা হত্যা করেছে— জনগণ তাদের নাম লিখে রাখবে
জাতির কলঙ্কিত অধ্যায়ে, কালো হরফে, চিরস্থায়ী অভিশাপ হয়ে।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa