- - -

গুমানী নদীতে ঐতিহ্যবাহী পানসি নৌকা বাইচ, দর্শনার্থীদের ঢল—এক লাখ টাকা জিতল বন্যাকান্দি একতা চ্যালেঞ্জার

img 20261014 wa0035
Print News

গুমানী নদীতে ঐতিহ্যবাহী পানসি নৌকা বাইচ, দর্শনার্থীদের ঢল—এক লাখ টাকা জিতল বন্যাকান্দি একতা চ্যালেঞ্জার

 

নদীর বুকে ছোট ছোট ঢেউ, বৈঠার ছন্দে ছুটে চলা সারি সারি পানসি নৌকা, মাঝি-মাল্লাদের কণ্ঠে জারি গান আর দুই পাড়ে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস—এ যেন গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যের এক বর্ণিল উৎসব। এমনই আনন্দঘন পরিবেশে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গুমানী নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পানসি নৌকা বাইচ। এ আয়োজনকে ঘিরে নৌবাড়িয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নদীর দুই পাড়ে ভিড় জমান নানা বয়সী দর্শনার্থী।

‘ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বন্ধনে’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজন করা হয় ‘প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক পানসি নৌকা বাইচ’। স্থানীয় প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোকের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করেন দেশবরেণ্য কৃষিবিদ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন।

নৌকা বাইচে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বেশ কয়েকটি প্রতিযোগী দল অংশ নেয়। বর্ণিল সাজে সজ্জিত পানসি নৌকায় একই ধরনের পোশাক পরে সারিবদ্ধভাবে বসেন মাঝি-মাল্লারা। এরপর নদীর বুকে শুরু হয় ছন্দময় বৈঠার লড়াই। বৈঠার প্রতিটি টানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলে নৌকাগুলো। সঙ্গে মাঝি-মাল্লাদের জারি গান আর দর্শকদের করতালি ও উল্লাস পুরো এলাকাকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
F
নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ উপভোগ করেন এ প্রতিযোগিতা। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। ঐতিহ্যবাহী এ নৌকা বাইচ যেন নতুন করে প্রাণ ফিরিয়ে দেয় গ্রামীণ জনপদের চিরচেনা লোকজ সংস্কৃতিতে।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে ফরিদপুরের বন্যাকান্দি একতা চ্যালেঞ্জার নৌকা দল। বিজয়ী দলকে প্রথম পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় এক লাখ টাকা। রাতে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কারের চেক তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর মুজাহিদ স্বপন, সদস্যসচিব ও আয়োজক প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক, চাটমোহর থেকে আগত বিএনপি নেতা ও অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম কালু, ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

আয়োজক প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক বলেন, “হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্যকে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই আমাদের এ আয়োজন। গুমানী নদীর পাড়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, মানুষ এখনো তার শেকড়কে ভালোবাসে।”

স্থানীয় দর্শনার্থীরা জানান, বহুদিন পর গুমানী নদীতে এমন জমজমাট নৌকা বাইচ দেখে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতি ধরে রাখারও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তাই ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন প্রতিবছর অব্যাহত রাখার দাবি জানান তাঁরা।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa