
হাসান মনসুরের সিদ্ধান্ত: এস আলম ধ্বংসের ছায়া, চট্টগ্রামের শ্রমিকদের রমজানের যন্ত্রণা
গভর্নর হাসান মনসুরের অবিবেচিত সিদ্ধান্তের কারণে এস আলম সংকট ও চট্টগ্রামের শ্রমিকদের রমজানের দুঃসহ বাস্তবতা- গভর্নর হাসান মনসুর–এর দায়িত্বকালেই দেশের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ–কে কেন্দ্র করে নেওয়া পদক্ষেপ আজ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। শিল্পগোষ্ঠীটির বিপর্যয় মানে শুধু মালিকপক্ষের ক্ষতি নয়—হাজার হাজার ব্যাংক কর্মকর্তা, লক্ষাধিক শ্রমিক, পরিবহন কর্মী, ক্ষুদ্র সরবরাহকারী এবং তাদের পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
চট্টগ্রাম কেবল একটি শহর নয়; এটি বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। বন্দর, কারখানা, ব্যাংক—সব কিছু এই নগরীর অর্থনীতির রগে রগে প্রবাহিত। এখানে কোনো বড় শিল্পগোষ্ঠীর আর্থিক টানাপোড়েন মানে শুধু করপোরেট ক্ষতি নয়; এর প্রভাব পড়ে প্রতিটি কর্মজীবীর জীবনযাত্রায়। তাদের বেতন, রুটি-রুজি, পরিবার-পরিজন সবকিছু অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। সমালোচকরা মনে করেন, শিল্পগোষ্ঠীটিকে ঘিরে আগেই নেতিবাচক বার্তা ও কঠোর মনোভাব ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর আর্থিক খাতে পুনর্বিন্যাস ও নজরদারি আরও জোরদার হয়। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে আতঙ্ক, শিল্পখাতে স্থিতিশীলতার অভাব এবং কর্মসংস্থানে সংকট দেখা দেয়। রমজানের পবিত্র সময়ে এই পদক্ষেপ বিশেষভাবে দুঃসহ হয়ে ওঠে। অসংখ্য পরিবার উপার্জনের অনিশ্চয়তায় কাটাচ্ছে দিন। শিশুদের ইফতার, পরিবারের দৈনন্দিন খাবার—সবই অনিশ্চিত। শ্রমিকরা বেতন না পেয়ে হতাশ, ব্যাংক কর্মকর্তা চাকরি হারানোর ভয়ে দুশ্চিন্তায়। সরবরাহকারী ও ছোট ব্যবসায়ী অনিশ্চয়তায়, বিনা আয়ের অবস্থায়। প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যেন ব্যক্তিগত এবং সামাজিক অভিশাপের ছায়ায় বেঁচে আছে। গভর্নরের পদক্ষেপের ফলশ্রুতিতে শিল্পগোষ্ঠীটি চরম সংকটের মুখে। অর্থাৎ—শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, লাখো মানুষের জীবিকার উপর অমোঘ প্রভাব ফেলেছে। এটি শুধু আর্থিক বা করপোরেট বিষয় নয়; এটি চট্টগ্রামের শ্রমিক সমাজের, পরিবারের এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির হৃদয়ে আঘাত। রাষ্ট্র অবশ্যই দায়িত্বে থাকবে—যদি কোনো অনিয়ম থাকে, তা তদন্ত হবে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া যেন মানুষের রুটি-রুজি ও নিরাপত্তা কেড়ে না নেয়। অবিবেচক ও তড়িঘড়ি পদক্ষেপ যেমন এই সময়ে নেওয়া পদক্ষেপ—শুধু শিল্পকে নয়, লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের পেটে লাথি মারে। আজ চট্টগ্রামের মানুষ চায়— স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের জন্য দ্রুত পুনর্বাসন ব্যাংকিং ও শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা ন্যায্য নীতিগত ভারসাম্য শিল্প ধ্বংস নয় সংস্কার হোক। মনগড়া ও তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নয় দূরদর্শিতা ও দায়িত্ববোধ হোক। চট্টগ্রামের শ্রমিক, কর্মকর্তা ও পরিবার যেন অনিশ্চয়তার ছায়া থেকে মুক্তি পায়—এটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
![]()









