- - -

সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না ইতালির প্রধানমন্ত্রী!

Print News

সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না ইতালির প্রধানমন্ত্রী!

 

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ক্ষমতা গ্রহণের পর ড. ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা ব্যাপক দুর্নীতি, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটলো, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা হ্রাসের সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, ড. ইউনূস জাতিসংঘের একটি ফোরামে অংশ নিতে রোম সফর করছেন। এই সফরকালে তিনি ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার সরকারের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ড. ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশজুড়ে এক নজিরবিহীন দমন-পীড়ন শুরু করেছেন। তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বিনা বিচারে আটক করা হয়েছে, দেড়লক্ষাধিক কর্মীকে জেলে পাঠানো হয়েছে এবং কারাগারে রহস্যজনক ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানোর মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। এ ছাড়া, তার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন সমালোচকরা।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, একসময়কার ‘শান্তির দূত’ এবং ‘দারিদ্র্য বিমোচনের প্রবক্তা’ হিসেবে পরিচিত ড. ইউনূসের এই রাজনৈতিক ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলকে গভীরভাবে হতাশ ও উদ্বিগ্ন করেছে। পশ্চিমা দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো, যারা একসময় তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিল, এখন তার সরকারের কর্মকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এই পরিস্থিতিতে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ না দেওয়াকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছেন কূটনীতিকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, নোবেলজয়ী হিসেবে অর্জিত সম্মানকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছালেও, তার সরকারের কর্মকাণ্ড তার সেই আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে। রোমের এই ঘটনা তারই সর্বশেষ উদাহরণ, যা প্রমাণ করে যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো শাসকের পাশে পশ্চিমা বিশ্ব দাঁড়াতে প্রস্তুত নয়।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa