- - -

রোগীদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের নিজেদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও নিশ্চিত করতে হবে: প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন

img 20261027 wa0024
Print News

রোগীদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের নিজেদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও নিশ্চিত করতে হবে: প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন
অথবা,
চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার বিকল্প নেই:প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন

রোগীদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের নিজেদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা মানুষের জীবন রক্ষা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত কর্মচাপ, ঘুমের ঘাটতি ও মানসিক চাপ তাঁদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রোগীদের সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করার স্বার্থেই চিকিৎসকদের সুস্থতা, কর্মপরিবেশ ও জীবনযাপনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইন্টারনাল মেডিসিন ডে-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী উৎসব ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারের অংশ হিসেবে মিনি ম্যারাথন উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ উপলক্ষে মিনি ম্যারাথনের পাশাপাশি ফুটবল ম্যাচেরও আয়োজন করা হয়।
প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চিকিৎসাসেবার গুণগত মানোন্নয়নে নিয়মিত জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত ও সমৃদ্ধ হচ্ছে। নতুন রোগনির্ণয় পদ্ধতি, চিকিৎসা নির্দেশিকা এবং গবেষণালব্ধ প্রমাণ সম্পর্কে হালনাগাদ জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে চিকিৎসকদের নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং রোগীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। এর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার মান উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ আরও কার্যকর ও নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা পাবে।
তিনি আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ ওষুধবিদ্যা বা ইন্টারনাল মেডিসিন আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগের প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসায় এ শাখার চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একজন রোগীর একাধিক রোগ ও জটিলতা একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত চিকিৎসা দিতে হয়। এ জন্য রোগীর পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রহণ, শারীরিক পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং হালনাগাদ বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সমন্বয় অপরিহার্য।
চিকিৎসকদের সুস্থতার প্রসঙ্গ তুলে প্রশাসক বলেন, চিকিৎসকদের সুস্থতা কেবল তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি স্বাস্থ্যসেবার মান ও রোগীর নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে স্বাস্থ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে, চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের অতিরিক্ত কর্মচাপ ও মানসিক অবসাদ তাঁদের পেশাগত সক্ষমতা এবং কর্মজীবনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। কর্মক্ষেত্রেও চিকিৎসকদের জন্য সহায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, খেলাধুলা ও শরীরচর্চা মানুষের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি অর্জন এবং পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক। চিকিৎসকদের ব্যস্ত পেশাগত জীবনে এ ধরনের আয়োজন তাঁদের নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পেশাগত বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে। রোগীদের প্রতি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেদের সুস্থ রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। গবেষণার ফলাফলকে চিকিৎসাচর্চায় প্রয়োগ, নিয়মিত পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্যসেবায় মান নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি রোগীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। প্রতিরোধযোগ্য রোগের ঝুঁকি কমানো গেলে ব্যক্তি, পরিবার ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপও কমানো সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম বিএমএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. তমিজ উদ্দিন চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন ডালী, সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইফতেখার লিটনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা।
দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের মূল দিবস ২৮ অক্টোবর। এদিন নানা কর্মসূচি, বর্ণাঢ্য আয়োজন ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারের মধ্য দিয়ে ইন্টারনাল মেডিসিন ডে-২০২৬ উদযাপন করা হবে।
ছবির ক্যাপশন: ইন্টারনাল মেডিসিন ডে-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত মিনি ম্যারাথন উদ্বোধন করছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa