
বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব, কোতোয়ালী থানা শানে গাউছে পাক ও জামে আউলিয়া সন্মেলন ও সালাতু সালাম মাহফিল অনুষ্ঠিত
বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব চট্টগ্রাম জেলার কোতোয়ালী থানা শাখার উদ্যোগে ২ অক্টোবর (শুক্রবার) নিজ কার্যালয়ে “হযরত গাওসে পাক (রহ.) ও জামে আওলিয়া কেরামের পথ পুণরুদ্ধার সম্মেলন” ও সালাতু সালাম মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব কোতোয়ালি থানা শাখার সম্মানিত সভাপতি আব্দুল বারেক। প্রধান মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব চট্টগ্রাম মহানগরের সম্মানিত সভাপতি আল্লামা আরেফ সারতাজ। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা শেখ নঈম উদ্দিন, জনাব মোজাম্মেল হক, জনাব মঈনউদ্দিন প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা, বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রবর্তক এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াতের দিকনির্দেশনা তুলে ধরে বলেন, সত্যের সংযোগ ও অটলতা, ঈমানী বিশ্বস্ততা এবং ইনসানিয়াতের সঞ্জীবনী শক্তির ধারক ছিলেন আওলিয়া কেরাম। তাঁরা ছিলেন দুনিয়ার খেলাফতে ইসলামের আলোকবর্তিকা, মহান রেসালাতের বন্ধন ও নূরে ইলাহীর প্রবাহধারা। আওলিয়া কেরাম সত্যের ধারক সত্যের দিকদর্শন। যেখানে সত্য নেই সেখানে আওলিয়া কেরাম নেই। যেখানে মিথ্যা সেখানে আওলিয়া কেরাম নেই। সত্যের বিপরীত পথে থেকে, মিথ্যা ও জুলুমের সহযোগী হয়ে আওলিয়া কেরামের অনুসারী দাবী করা শুধু প্রতারণা নয়, তাঁদের সাধনা ও আদর্শের বিরূদ্ধে যুদ্ধ করা। তরিকত, মাজার ওরশ যা কিছু আমাদের দ্বীনী রূহানী জীবনের অবিচ্ছেদ্য বিষয় সেসব পবিত্র নামেও চলছে অনেক বিকৃতি ও প্রহসন। অনেক স্থানেই হক বাতেলের কোন প্রশ্ন নেই, সত্যের দিশাও নেই, মিথ্যার বিরূদ্ধেও সচেতনতা নেই, আছে শুধু প্রদর্শনী, ফলে মুক্তিও নেই।
আওলিয়া কেরামের পবিত্র নাম নেয়া হচ্ছে, তাঁদের নামে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা হচ্ছে, কিন্তু তাঁদের শিক্ষা ও পথ আড়াল করা হচ্ছে, বিকৃত বিলুপ্ত করা হচ্ছে। ভেজাল ও মিথ্যাকে প্রশ্রয় ও পথ করে দেয়া হচ্ছে, সত্য ও মুক্তির পবিত্র পথকে বিভিন্ন কৌশলে অবজ্ঞা উৎখাত করা হচ্ছে। আত্মিকভাবে অন্তসারশূন্য ও বস্তুবাদী করে তোলা হচ্ছে ফলে রাজনৈতিকভাবেও কলেমার বিপরীতে অপশক্তির দাস দোসর করে জীবন বিকিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং পরিণতিতে আওলিয়া কেরামের আসল পথ তথা প্রকৃত ইসলাম হারিয়ে গেছে, মিল্লাত পরাজিত হয়ে গেছে।
এ সংকটজনক অবস্থায় শুধু লক্ষ্যহীন দিশাহীন আনুষ্ঠানিকতা নয়, নিজেদের অস্তিত্ত্বের স্বার্থে আওলিয়া কেরামের প্রকৃত পথ, তাঁদের দিশা ও আমানতের উত্তরাধিকার হয়ে মিল্লাতের জাতীয় মুক্তির বিপ্লবী অভিযাত্রায় আমাদের অবশ্যই যুক্ত হতে হবে, যদি আমরা আওলিয়া কেরামের আপন হই। আওলিয়া কেরামের প্রকৃত পথের পূণরূজ্জীবন ও সে পথে ঐক্যবদ্ধ অগ্রযাত্রার মাধ্যমেই জীবন ও দ্বীন মিল্লাতের হারানো সব কিছু পূণরূদ্ধার ও পূণপ্রতিষ্ঠা সম্ভব। আর এটাই হতে হবে আমাদের লক্ষ্য।
আমরা যারা আল্লাহ ও তাঁর হাবীবের উদ্দেশ্যে আওলিয়াকেরামকে ভালবাসি, আওলিয়াকেরামের হয়ে চলতে চাই,সত্য ও মানবতার দ্বীনের প্রতিষ্ঠা চাই, মিথ্যা ও জুলুমের অবসান চাই, বাতেলের আগ্রাসন রূখতে চাই, মিল্লাত ও মানবতার মুক্তি চাই, তাদের আজ অবশ্যই সব সংকীর্ণতা মুক্ত হয়ে সব তরিকত খানকা দরবার মুমিন ভাই বোন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ স্রোতধারায় যুক্ত হয়ে দুনিয়া ব্যাপী ছুন্নী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ছুন্নী আন্দোলন ব্যতীত সর্ব বাতেল থেকে মুক্তি যেমন সম্ভব নয় তেমনি আওলিয়া কেরামের প্রকৃত পথে দ্বীনের পূর্নাংগ প্রতিষ্ঠাও সম্ভব নয়। এজন্য দয়াময় আল্লাহ ও প্রিয়নবীর প্রেম, আওলিয়া কেরামের শিক্ষা এবং দ্বীন মিল্লাতের জাতীয় স্বার্থকে সব কিছুর উপরে স্থান দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, কুফর-জুলুম ও স্বৈরাচার থেকে মুক্ত জীবন গড়ার অনুপ্রেরণা এবং পার্থিব দাসত্বের শিকল থেকে আত্মার মুক্তির পথ দেখিয়েছেন আওলিয়া কেরাম। আহলে বাইত, খোলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবায়ে কেরামের উত্তরাধিকার হিসেবে তাঁরা তাওহীদ, রেসালাত ও ইনসানিয়াতের দীপ্ত বার্তা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে গেছেন।
![]()









