
নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফকে গুলি করে হত্যা, জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান শুরু
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০) নামে এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজার এলাকায় এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম, অপরাধ এবং সীমান্ত এলাকার মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখি করতেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে হলেও তিনি দুর্গাপুরের বিরিশিরি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে আলিফ উতরাইল বাজারের একটি দোকানে বসেছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই অজ্ঞাত যুবক তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান জানান, নিহত সাংবাদিকের মাথা, গলা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মোট পাঁচটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরই তিনি ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।
আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন আলিফ।
নিহত সাংবাদিক আলিফের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনি। সে সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। এমনকি তার সঙ্গে থাকা সহকর্মী শাহজাহান শেখ বাধা দিতে গেলে তাকেও ধাওয়া করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তখন দাবি করা হয়েছিল, সংবাদ প্রকাশের জেরে ওই হামলা চালানো হয়েছিল। তবে আগের ওই হামলার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে।
প্রকাশ্যে একজন সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার এই ঘটনায় নেত্রকোনার স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
![]()









