- - -

নকলায় ১৮ বছরেও চালু হয়নি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, কিছুদিন পর পর অগ্নি দূর্ঘটনায় নিঃস্ব স্থানীয়রা

Print News

নকলায় ১৮ বছরেও চালু হয়নি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, কিছুদিন পর পর অগ্নি দূর্ঘটনায় নিঃস্ব স্থানীয়রা

 

শেরপুরের নকলা উপজেলায় আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে তিনটি পরিবার। মঙ্গলবার(১৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার পাঠাকাটা ইউনিয়নের পাঠাকাটা মাঝিবাড়ি এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।

অগ্নিকাণ্ডে সব হারিয়ে দিশেহারা তিন পরিবার। শুধু ঘরই নয়, আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে ধান-চালসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকালে রান্নার চুলা বা অন্য কোন উৎস থেকে স্থানীয় আনারুলের ঘরে আগুন ধরে যায় । এরপর একে একে বাড়ির আরও অন্যান্য ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও তার আগেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় ঘর গুলোর মূল্যবান আসবাবপত্র। এতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে অসহায় পরিবার গুলো।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত আনারুল বলেন আগুনে আমাদের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।এখন মাথাগোঁজার স্থান নেই। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি।

এভাবেই কান্নাজড়িত কন্ঠে অপর ক্ষতিগ্রস্ত তারা মিয়া , বলেন আগুনে পুড়ে সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার বই, জমিজমার কাগজ সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমরা এখন অসহায়। ছেলেমেয়ে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আছি।

এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রাব্বানী ও পাঠাকাটা গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গোলাম সারোয়ার বলেন, অগ্নিকাণ্ডে পাঠাকাটা মাঝিবাড়ি পরিবার গুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে আমরা যা পারছি তাদের সাহায্য করছি। এক্ষেত্রে প্রশাসনের সহযোগীতা প্রয়োজন।

এদিকে ২০০৬ সালে উপজেলার পৌরসভার কুর্শা বাদাগৈড় এলাকায় বরাদ্দকৃত জমিতে আইনি জটিলতায় প্রায় ৮০% কাজ হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় নকলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাজ। কাজ বন্ধের ১৮ বছর পার হলেও পরবর্তীতে আর কোন অগ্রগতি হয়নি প্রায় ৩৬ লাখ টাকার এ প্রকল্পটির। ফলে উপজেলার কোথাও অগ্নি দূর্ঘটনা কিংবা অন্য কোন দূ্র্ঘটনা ঘটলে প্বার্শবর্তী শেরপুর সদর উপজেলা অথবা নালিতাবাড়ী উপজেলার দমকল বাহিনীই একমাত্র ভরসা।

দূরত্ব এবং যানযট সহ বিভিন্ন কারনে শেরপুর সদর অথবা নালিতাবাড়ী হতে নকলার ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অনেক বেশি দেরি হয় যার ফলে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান অনেক বেশি হয় । অনেকসময় দেখা যায় প্বার্শবর্তী উপজেলা হতে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আগুনে পুড়ে একাধিক বাড়ি ছাই হওয়ার পর এমনি এমনি আগুন নিভে যায়।

সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চালু করার দাবি উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের। স্থানীয়রা জানিয়েছেন উপজেলায় প্রতি বছরই একের পর এক অগ্নিদূর্ঘটনার ঘটনা ঘটে থাকে ।এতে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, গবাদি পশু সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র টাকা পয়সা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ফলে সব সময়ই আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয় উপজেলায় বসবাসরত বাসিন্দাদের।

উপজেলায় ফায়ারসার্ভিস স্টেশন চালু করা হলে আগুন সহ বিভিন্ন দূর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমান অনেকটা কমে যাবে বলে দাবী স্থানীয়দের। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সকল আইনি জটিলতা নিরসন করে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চালু করার দাবি জানান তারা।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa