- - -

টরকী বন্দরে মাদক বেচাকেনার অভিযোগ, পলাশ মিত্রকে ঘিরে স্থানীয়দের নানা প্রশ্ন

Print News

পুলিশ ক্যাম্পের পেছনেই মাদকের স্পট!
টরকী বন্দরে মাদক বেচাকেনার অভিযোগ, পলাশ মিত্রকে ঘিরে স্থানীয়দের নানা প্রশ্ন

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ব্যস্ততম টরকী বন্দরে পুলিশ ক্যাম্পের পেছনেই মাদকের জমজমাট কারবার চলার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ক্যাম্পের এত কাছাকাছি মাদক কেনাবেচার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পলাশ মিত্র নামে এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের দাবি, তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, টরকী বন্দর পুলিশ ক্যাম্পের পেছনের একটি নির্দিষ্ট স্থানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার কার্যক্রম চলছে। সন্ধ্যার পর সেখানে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায় বলেও দাবি তাদের। এতে বন্দর এলাকার ব্যবসায়ী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—পুলিশ ক্যাম্পের নাকের ডগায় যদি মাদক কেনাবেচার অভিযোগ থাকে, তাহলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসছে না কেন?
অভিযোগ রয়েছে, পলাশ মিত্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা থাকার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এসব মামলার সংখ্যা, বর্তমান অবস্থা এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট থানার নথি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
টরকী বন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে যাতায়াত করেন। এমন এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে তরুণ সমাজের ওপর—এমন আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকরা।
তাদের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও কার্যকর অভিযান প্রয়োজন। মাদকের উৎস, সরবরাহকারী এবং বিক্রেতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের মূল উদ্দেশ্যই হলো স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধ, টহল, নজরদারি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ফলে ক্যাম্পের আশপাশে মাদক ব্যবসার অভিযোগ উঠলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি।
একই সঙ্গে তারা বলছেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় কিংবা যোগসাজশের অভিযোগ উঠলে তারও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয়দের দাবি
টরকী বন্দর এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা, কথিত মাদক স্পটগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি, মাদক বিক্রেতা ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত এবং মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে পলাশ মিত্রের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তার বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa