- - -

কুমিল্লা দেবিদ্বারে বাড়ির মালিককে খুন, ৯ প্যাকেটে মিলল খণ্ডিত লাশ। আটক-১

Print News

কুমিল্লা দেবিদ্বারে বাড়ির মালিককে খুন, ৯ প্যাকেটে মিলল খণ্ডিত লাশ। আটক-১

 

কুমিল্লার দেবিদ্বারের ছোট আলমপুর এলাকায় ভাড়াটিয়ার হাতে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামে এক নারী খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে নিহতের মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় লাইলী আক্তার নামে এক ভাড়াটিয়াকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (৮ আগষ্ট) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আটক লাইলী আক্তার ওই এলাকার চাঁপানাঘর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদা ইয়াসমিন দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে ছোট আলমপুর এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। তাঁর স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা ইয়াসমিন বাড়িতে একাই থাকতেন। বাড়ির একটি ঘর লাইলী আক্তারের কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল।
শনিবার সকালে ফরিদার ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে ফরিদার বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে পলিথিনে মোড়ানো কয়েকটি প্যাকেট দেখতে পান। প্যাকেটগুলোতে খণ্ডিত মরদেহ রয়েছে বুঝতে পেরে তিনি পুলিশকে খবর দেন।
খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং রবিউল, সোহেল, ইমন ও তাঁর স্বামী আবুল কালাম আজাদের নাম উল্লেখ করেছেন।
পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনে মোড়ানো খণ্ডিত মরদেহের নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করে এবং লাইলী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত মরদেহের নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আটক লাইলীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও চারজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের ভূমিকা তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি জানান।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa