
আমতলীতে কুরবানির মাংস পেয়ে আনন্দে আত্মহারা বিউটি বেগম
কুরবানির মাংস হাতে পেয়ে আনন্দ যেন আর ধরে না আমতলী উপজেলার আড়পাংগাশিয়া ইউনিয়নের পশরবুনিয়া গ্রামের অসহায় বৃদ্ধা বিউটি বেগমের। নদীর ধারে একটি জরাজীর্ণ ঘরে একাই বসবাস করেন তিনি। ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করা এই নারী জীবনের কঠিন বাস্তবতাকেই ভাগ্য মেনে নিয়েছেন। নেই কোনো অভিযোগ, নেই কোনো আক্ষেপ; বর্তমান নিয়েই তিনি সন্তুষ্ট।
সম্প্রতি ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের কুরবানি কর্মসূচির আওতায় ২ কেজি গরুর মাংস পান বিউটি বেগম। সেই মাংস হাতে পেয়েই যেন ঈদের আনন্দ নেমে আসে তার ছোট্ট ঘরে। আনন্দে উজ্জ্বল মুখে দ্রুত বাড়ির পথে রওনা দেন তিনি। আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা মসলা দিয়ে মাংস মাখিয়ে চুলায় রান্না বসাতে বসাতে আবেগভরা কণ্ঠে বলেন,
“সেই গেল বচ্ছর কুরমানিতে গরুর মাংস খাইছি। এবার যা পাইছি, একলা খামু এট্টু এট্টু হইরা। জাল দিয়া থুইয়া দিমু। ক্যারে দিতে যামু? রোজ রোজ কি এরহম মাংস পাই?”
তার কথার মধ্যেই ফুটে ওঠে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর সামান্য প্রাপ্তিতে অসীম তৃপ্তির ছবি। মুখভরা হাসি নিয়ে রান্নার ব্যস্ততায় মগ্ন বিউটি বেগমের আনন্দ মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের মানুষের মাঝেও।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন,
“ইসলামিক রিলিফকে দোয়া করি, আল্লায় হেগো আরো দেউক!”
সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কুরবানির মাংস শুধু একটি খাদ্যসামগ্রী নয়; এটি ঈদের আনন্দ, ভালোবাসা ও মানবিকতার এক মূল্যবান উপহার। আর বিউটি বেগমের মতো অসহায় মানুষের মুখে এমন নির্মল হাসিই মানবিক উদ্যোগগুলোর সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
![]()









