- - -

আদালতের স্থিতাবস্থা, কর্ণফুলীতে পুকুরপাড়ে খুঁটি বসাতে পল্লী বিদ্যুতের তোড়জোড়!

1000853290
Print News
আদালতের স্থিতাবস্থা, কর্ণফুলীতে পুকুরপাড়ে খুঁটি বসাতে পল্লী বিদ্যুতের তোড়জোড়!
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে জমি নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা চলমান। এরই মধ্যে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদালতের আদেশ রয়েছে বলে দাবি করেছেন জমির এক অংশীদার। তবে সেই আদেশের মধ্যেই পুকুরপাড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন ও বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন কর্ণফুলীর শাহমীরপুর এলাকার বাসিন্দা ফরিদা নাজনীন শামীম।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, কর্ণফুলী উপজেলার শাহমীরপুর মৌজায় তাঁদের মালিকানাধীন ও অংশীদারি একটি এজমালি পুকুরপাড় রয়েছে। জায়গাটি প্রায় ছয় ফুট প্রশস্ত। তাঁর দাবি, সেখানে আগে কোনো সাধারণ বা গণচলাচলের রাস্তা ছিল না। আশপাশে একটি মাত্র ঘর থাকায় সেখানে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তার প্রয়োজনীয়তাও নেই।
আবেদনে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে চট্টগ্রামের আদালতে ৮০১/২০২৬ নম্বর দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, গত ১১ জুন আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি জমি নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায়ও কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আবেদনকারীর অভিযোগ, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই বিরোধপূর্ণ পুকুরপাড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন ও বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে জমির বর্তমান অবস্থা পরিবর্তিত হওয়ার পাশাপাশি চলমান মামলার বিষয়বস্তুও প্রভাবিত হতে পারে। এ কারণে আদালতের চূড়ান্ত রায় বা পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সেখানে খুঁটি স্থাপন ও বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণের কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী জোনাল অফিসের উপ মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. সাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকলে আমাদের অবশ্যই জানাতে হবে। এ ছাড়া আইনি প্রক্রিয়ায় খুঁটি স্থাপন বা চলমান কাজে বাধা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে আমরা সেখান থেকে সরে আসব।’
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সদর দপ্তরের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ সরওয়ার জাহান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এই মুহূর্তে বিস্তারিত অবগত নই। অফিসের নথিপত্র যাচাই করে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে। এ-সংক্রান্ত তথ্যের জন্য কর্ণফুলী কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে ভালো হয়।’
বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন বা সংশ্লিষ্ট পূর্তকাজের প্রয়োজনে লাইসেন্সি নির্দিষ্ট শর্তে ভূমি বা ভূমির ওপর দিয়ে পথ ব্যবহারের অধিকার পেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ভূমির মালিককে যুক্তিসংগত সময় আগে লিখিতভাবে অবহিত করার বিধান রয়েছে।
আইনের ১২ ধারায় বিদ্যুৎকাজের কারণে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণের বিধানও রয়েছে।
তবে আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ কার্যকর থাকলে সংশ্লিষ্ট জমিতে কী ধরনের কাজ করা যাবে, তা আদেশের সুনির্দিষ্ট ভাষা ও পরিধির ওপর নির্ভর করবে।
আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কার্যক্রম নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে প্রতিকার চাইতে পারে। এখন বিরোধপূর্ণ জমিতে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনের উদ্যোগ এবং আদালতের আদেশের বিষয়টি কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa