
চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা’র পাইন্দং বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন
একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেকে একটি বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ—আজ পাইন্দং উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুপ্রেরণার এক অসাধারণ দিন। “একটি বিদ্যালয় শুধু একটি ভবন নয়—একটি বিদ্যালয় হলো হাজারো স্বপ্নের কারখানা।” চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা মহোদয়ের বিদ্যালয় পরিদর্শন আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সবচেয়ে আনন্দের বিষয়—তিনি শুধু বিদ্যালয় ঘুরে দেখেই চলে যাননি; প্রায় এক ঘণ্টা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি বসে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের স্বপ্ন শুনেছেন এবং জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেছেন— * জীবনে শুধু ভালো ফলাফল নয়, একজন পরিপূর্ণ মানুষ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা। * নীতি-নৈতিকতা, সততা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের গুরুত্ব। * ব্যর্থতা কখনোই জীবনের শেষ কথা নয়। কঋঈ-এর প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল হারল্যান্ড স্যান্ডার্স এবং ঔধপশ গধ-এর জীবনের নানা ব্যর্থতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝান—বারবার ব্যর্থ হলেও যারা নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যায় না, তারাই একসময় সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারে। তিনি শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেন—আজ আমাদের গ্রামের ছেলেমেয়েরাও ডাক্তার, প্রকৌশলী, বিচারক, ব্যারিস্টারসহ বিভিন্ন পেশায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে; দেশ গঠনে ভূমিকা রাখছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। নৈতিক শিক্ষায় উঠে এলো হযরত ওমর (রা.)-এর জীবন শিক্ষার্থীদের সামনে হযরত ওমর (রা.)-এর ন্যায়পরায়ণতা, দায়িত্ববোধ, পারিবারিক সম্পর্ক ও বিচারকার্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বোঝান—জীবনে যত বড় হওয়া যায়, ন্যায় ও মানবিকতার জায়গাটি তত বেশি শক্ত করে ধরে রাখতে হয়। বিদ্যালয়ের পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা, ছাত্র-ছাত্রীদের ওউ ঈধৎফ প্রদান, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা/কোচিং এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ডযধঃংঅঢ়ঢ় গ্রুপের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ—এসব উদ্যোগ সম্পর্কে অবগত হয়ে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একজন সভাপতি হিসেবে তাঁর এই ইতিবাচক মূল্যায়ন আমার ব্যক্তিগত আনন্দের বিষয় হলেও, তার চেয়েও বড় বিষয় হলো—এটি আমাদের আরও ভালো কাজ করার দায়িত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, প্রশংসা আমাদের থামিয়ে দেওয়ার জন্য নয়; বরং আরও ভালো করার জন্য অনুপ্রেরণা। বিদ্যালয়ের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার প্রত্যয়। পরিদর্শন শেষে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা একটি লিখিত আবেদনপত্র তাঁর হাতে তুলে দিয়েছি। সেখানে রয়েছে— পশ্চিম পাশের ওয়াশরুম সংস্কার, শহীদ মিনার নির্মাণ, মাঠ সংস্কার, নিরাপত্তার জন্য বাউন্ডারি দেয়াল, ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক সংকট নিরসন, বিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, আইসিটি, চারু ও কারুকলা বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষক/জনবল, কর্মচারী ও ল্যাব-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা সহ বিদ্যালয়ের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত দাবি। তিনি আবেদনটি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের আশ্বাস দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ, আমি এবং আমাদের প্রধান শিক্ষক খুব শিগগিরই তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে বিদ্যালয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করব। একসঙ্গে কাজ করলেই বদলাবে পাইন্দং উচ্চ বিদ্যালয়। আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন— অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব সাইদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লায়ন মোঃ মাসুদুল আলম চৌধুরী মাসুদ, পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ.কে.এম. সরোয়ার হোসেন স্বপন, মেম্বার এমদাদ হোসেন, সাজ্জাদ হোসেনসহ উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু গোবিন্দ দাস, সহকারী প্রধান শিক্ষক জনাব আশরাফ আলী, শিক্ষক প্রতিনিধি জনাব তসফিক উদ্দিন আহমদ, সহকারী শিক্ষক ফোরকান উদ্দিন মান্নান, জান্নাতুন নূর, মিসেস চন্দনা প্রভা ভৌমিক, মিসেস দীপ্তি রানী পাল, মোকতারুল আলম, এমদাদ হোছাইন, মুহাম্মদ ইয়াছিন, বাবু সতীশ চন্দ্র রায়সহ শিক্ষকবৃন্দ এবং কর্মচারীদের মধ্যে মোহাম্মদ সোহেল মাহমুদ, মোহুরম আলী ও শোভা বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।
![]()









