
কেশবপুরে পেট্রোল কেনা নিয়ে বিরোধে হামলা: নারী আহত, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গঁলকোট গ্রামে পেট্রোল কেনা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া হামলাকারীরা বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর এবং নগদ টাকাসহ মালপত্র লুণ্ঠন করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন- একই এলাকার মো. হযরত আলী (৪৫), মো. সাইফুল ইসলাম (২২) এবং মো. লুৎফর মৌলভী (৬৫)। এছাড়া আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ০১ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখ রাত আনুমানিক ৯:০০ টার দিকে বাদী রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. জিহাদ (১৪) মোটরসাইকেলের জন্য ১নং বিবাদী হযরত আলীর দোকান থেকে বোতলজাত পেট্রোল কিনতে যায়। কিন্তু হযরত আলী তাকে পেট্রোল দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে রফিকুল ইসলাম নিজে দোকানে গিয়ে কারণ জিজ্ঞাসা করলে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে ১নং বিবাদী হযরত আলী তাকে ঝাড়ু দিয়ে পিটিয়ে আঘাত করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ওই রাতেই আনুমানিক ১০:০০ টার দিকে বিবাদীরা মোটরসাইকেলযোগে বাদীর বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় রফিকুল ইসলামের ছেলেরা তাদের থামতে বলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আনুমানিক রাত ১১:০০ টার দিকে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রফিকুল ইসলামের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে।
হামলাকারীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বাধা দিতে গেলে বাদীর স্ত্রী আমেনা খাতুনকে (৩৬) পাকা ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। এরপর তারা ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীরা ঘরের অ্যালবেস্টার টিন, ড্রাম, শ্যালো মেশিন, শোকেসের গ্লাস, মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্র ভেঙে আনুমানিক ৩ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ১নং বিবাদী ঘর থেকে গরু বিক্রির নগদ ৮০,০০০/- (আশি হাজার) টাকা চুরি করে নেয় এবং অপর বিবাদীরা গোয়াল ঘর থেকে একটি লাল রঙের এড়ে গরু বের করে নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য ৮০,০০০/- (আশি হাজার) টাকা।
আহত আমেনা খাতুনকে পরবর্তীতে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবার থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করে।
হামলার বিষয়ে অস্বীকার করে হযরত আলী স্ত্রী বলেন এদেশে কোন আইন ব্যবস্থা নেই আমার স্বামীকে ও মাদক ব্যবসায়ী ও তার ছেলে মোটরসাইকেল আটকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে, এরপর চেঁচামেচি হলে স্থানীয় লোকজনের আমার স্বামীকে উদ্ধার করে। এরপর স্থানীয় লোকজন মিলে তার বাড়িতে হামলা করেছে কিনা আমি জানিনা। পরে শুনেছি ভাঙচুর হয়েছে।
কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
![]()









