- - -

দ্বেধাবিতর্ক সুত্রঃ বৌদ্ধ ধর্মের ত্রিপিটকের সুত্র পিটকের অন্তর্গত মজ্জিমনিকায়ের ১৯ নম্বর সুত্র। ‘

fb img 1792581500159
Print News

“দ্বেধাবিতর্ক সুত্রঃ বৌদ্ধ ধর্মের ত্রিপিটকের সুত্র পিটকের অন্তর্গত মজ্জিমনিকায়ের ১৯ নম্বর সুত্র। “

 

দ্বেধাবিতর্ক’ শব্দের অর্থ “চিন্তার দ্বিমুখী বিভাজন”। এই সুত্রে গৌতম বুদ্ধ বোধিজ্ঞান বা বুদ্ধত্ব লাভের পূর্বে তাঁর মনের চিন্তাগুলোকে কীভাবে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন, তার একটি চমৎকার বিবরণ দিয়েছেন।

সুত্রটির মূল শিক্ষা ও কাঠামো হলো:
(ক). চিন্তার দ্বিমুখী বিভাজনঃ
বুদ্ধ হওয়ার আগে যখন তিনি বোধিসত্ত্ব অবস্থায় ছিলেন, তখন তিনি তাঁর মনে উৎপন্ন সমস্ত চিন্তা বা বিতর্ককে প্রধান দুটি ভাগে ভাগ করেন:
অকুশল চিন্তা
১. কামবিতর্ক: ইন্দ্রিয়সুখের চিন্তা।
২. ব্যাপাদবিতর্ক: হিংসা, দ্বেষ বা কারো অমঙ্গল সাধনের চিন্তা।
৩. বিহিংসাবিতর্ক: নিষ্ঠুরতা বা ক্ষতি করার চিন্তা।
কুশল চিন্তাঃ
১. নেক্খম্মবিতর্ক: আসক্তিহীনতা বা ত্যাগ ও বৈরাগ্যের চিন্তা।
২. অব্যাপাদবিতর্ক: মৈত্রী, অহিংসা ও করুণার চিন্তা।
৩. অবিহিংসাবিতর্ক: অহিংসা বা কারো ক্ষতি না করার মানসিকতা।

(খ). মনের প্রবণতা ও তার প্রভাবঃ
বুদ্ধ এই সুত্তে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানসিক সত্য প্রকাশ করেছেন:
“মানুষ তার মন দিয়ে যা বারবার চিন্তা করে এবং অনুধাবন করে, তার মন ঠিক সেই দিকেই ঝুঁকে পড়ে।”
দ্বেধাবিতর্ক সুত্রের সারাংশঃ
যদি কেউ ক্রমাগত কাম বা হিংসার চিন্তা করতে থাকে, তবে তার মন অকুশল অভ্যাসের দিকে ধাবিত হয়। পক্ষান্তরে, ত্যাগ ও মৈত্রী চিন্তা করলে মন কুশল ও শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে।
——————
অনেক সময় একই ধরনের বাণী স্বামী বিবেকানন্দের বলে প্রচার করা হয় (যেমন— “নিজেকে দুর্বল ভাববে না, তুমি যা ভাবো তার চেয়েও শক্তিশালী”
বা “আমরা যা আমাদের চিন্তাভাবনা আমাদের তৈরি করেছে”)।
তবে “তুমি যা ভাবো, তাই হয়ে ওঠো”—এই সংক্ষিপ্ত রূপটি মূলত গৌতম বুদ্ধের
দ্বেধাবিতর্ক সুত্রের সারসংক্ষেপ।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa