
সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ছয় দিনেও অজানা কারণ, শোকে প্রাণ গেল ফুফুর
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলামের। গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও
আজ ২০ অক্টোবর রবিবার
ছয় দিন পরও মৃত্যুদণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে পারেনি তাঁর পরিবার।
এ ঘটনায় হতবাক স্বজন ও প্রতিবেশীরা। অন্যদিকে, নজরুলের মৃত্যুর খবর সইতে না পেরে সেদিনই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)।
নিহত নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে এসএসসি পাস করার পর ২০২২ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে মক্কা নগরীর পবিত্র হারাম শরিফে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় সাত মাস পর থেকে নজরুলের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরে একদিন হঠাৎ ফোন করে তিনি জানান, কারাগারে বন্দি রয়েছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায়ও পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। এ সময় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন নজরুল।
নজরুলের বাবা আবদুল বাছির জানান, প্রায় তিন বছর তিন মাস ধরে তাঁর ছেলে সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে গত রোববার ছেলের সঙ্গে তাঁর শেষবারের মতো কথা হয়।
আবদুল বাছির বলেন, ‘প্রায় তিন বছর তিন মাস ধরে সে কারাগারে ছিল। গত রোববার আমাকে ফোনে জানায়, সে সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এটাই তার সঙ্গে আমার শেষ কথা।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৪ অক্টোবর নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন তাঁরা। সৌদি আরবে অনৈতিক কাজের অভিযোগে নজরুল ইসলাম ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কী অভিযোগে, কোন মামলায় এবং কী প্রক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরিবারের সদস্যরা এখনো জানতে পারেননি।
নজরুলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।
প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা সইতে না পেরে সেদিনই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর ফুফু আবেদা বেগম। স্বজনদের কাছে নজরুলের মৃত্যু যেন একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ডের কারণ জানতে না পারার গভীর অনিশ্চয়তা।
পরিবারের একমাত্র ভরসা হয়ে বিদেশে যাওয়া নজরুলের এমন পরিণতিতে বিরামপুর গ্রামের মানুষও হতবাক। তাঁর মৃত্যুদণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পেতে পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করছেন।
![]()









