
কালীগঞ্জে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ, মসজিদ সেক্রেটারির নামে মামলা দায়ের
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে ৩ সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ একই এলাকার মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি হাবিবুল্লাহ সরদার(৫৬) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি কালিকাপুর গ্রামের হারেজ সরদারের ছেলে ও ২ সন্তানের জনক। এ ব্যাপারে কালিকাপুর গ্রামের সাইফুল্লার স্ত্রী ও কাদের আলী গাজীর ভুক্তভোগী কন্যা গত সোমবার ( ৫ অক্টোবর ) বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় হাবিবুল্লাহ সরদার কে আসামি করে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন যমুন আইন (সংশোধনী)২০২০ এর ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৪। মামলা দায়েরের পর পুলিশ এখনো পর্যন্ত আসামি আটক করতে পারেনি।
তবে ধর্ষণ মামলা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের বক্তব্যে জানা যায় দুই পরিবার এলাকা ছেড়ে দীর্ঘদিন নদীর চরে বসবাস করে আসছে। আসামি হাবিবুল্লাহ চর পাঞ্জেগানা মসজিদের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। মামলার বাদীর স্বামী দিনমজুর হওয়ায় অধিকাংশ সময় এলাকা ছেড়ে বিভিন্ন জেলায় ভাটা শ্রমিক হিসেবে কাজে যায়। সেই সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী হাত কাটা হাবিবুল্লাহর সঙ্গে পরকীয়া ও অনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বাদী। বিষয়টি নিয়ে এলাকার বেরসিক জনতার হাতে ধরাধরি হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি ও তার স্বামী জেনে যাওয়ায় দুই পরিবারের সঙ্গে বিরোধ ও দর কষাকষিতে সমঝোতা না হওয়ায় স্বামীর তালাক ঠেকাতে মিথ্যা ধর্ষণের মামলা সাজানো হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার এলাকায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের হোতা সাতক্ষীরার বিভিন্ন থানায় ডজন মামলার আসামি শাহীনকে নিয়ে বসাবসি হয়েও কোন সূরাহ হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন বাদী এবং আসামি হাবিবুল্লাহ সরদার কালিকাপুর গ্রামের নদীর চরে বসবাস ও এলাকার পরস্পর প্রতিবেশী। স্বামী দিন মজুরের কাজের জন্য প্রায় এলাকার বাইরে থাকায় নষ্ট টিউবওয়েল ঠিক করার জন্য হাবিবুল্লাহকে খবর দেয়। হাবিবুল্লাহ গত ১৮ আগস্ট দিনে না গিয়ে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে টিউবওয়েল ঠিক করার নামে জোর পূর্বক মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ঘটনা জানাজানির ভয় দেখিয়ে পুনরায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১ টার দিকে স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে আবারো জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বিষয়টি তার স্বামী বাড়িতে আসলে ঘটনা জানানোর পরে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর স্বামী জানান তার স্ত্রী ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কুৎসা রটাচ্ছে আমি এর বিচার চাই। থানার অফিসার্স ইনচার্জ শাহিন হোসেন এ প্রতিনিধিকে জানান প্রাথমিক অভিযোগে মামলা নেওয়া হয়েছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
![]()








