- - -

আবু ছালেহ ৬২ তে ছাত্রলীগ পুনরুজ্জীবনের অন্যতম উদ্যোক্তা ও মুক্তিযুদ্ধে অপারেশন ঈগলের কমান্ডার

Print News

আবু ছালেহ ৬২ তে ছাত্রলীগ পুনরুজ্জীবনের অন্যতম
উদ্যোক্তা ও মুক্তিযুদ্ধে অপারেশন ঈগলের কমান্ডার

নাসিরুদ্দিন চৌধুরী

 

আবু ছালেহ পরিপূর্ণভাবে একজন জাতীয়তাবাদী রাজনীতিক, স্বাধীনতা সংগ্রামী, ষাটের দশকের প্রথমার্ধে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা, আইয়ুবের সামরিক শাসনের লৌহ বেষ্টনী থেকে ছাত্রলীগকে মুক্ত করে পুনর্গঠিত করার অন্যতম উদ্যোক্তা, ষাটের দশকের শেষার্ধ থেকে চট্টল শার্দুল এমএ আজিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অভিষিক্ত হয়ে স্বাধীনতার অভিমুখে চট্টগ্রামের রাজনীতিকে পরিচালনা, সত্তর খ্রিস্টাব্দে ঐতিহাসিক নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় সংসদ সদস্য (এমএনএ), মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ডিমাগিরি নামক পার্বত্য অঞ্চলে শরণার্থী শিবির ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপয়িতা, কালুরঘাট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলে মুজিববাহিনীর কমান্ডার ও অপারেশন ঈগলের দক্ষিণ কলামের কমান্ডার হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিজয় অভিযানে রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব প্রদান, ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে গণপরিষদ সদস্য হিসেবে সংবিধান প্রণয়নে অংশগ্রহণ ও স্বাক্ষর দান, বাকশালের দক্ষিণ জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত-উত্তর দুঃসময়ে মুষ্টিমেয় যে ক’জন নেতা আওয়ামী লীগের হাল ধরে রেখেছিলেন, আবু ছালেহ’র নাম তাঁদের অগ্রভাগেই শোভা পাবে।
আবু ছালেহ ১৯ জুন ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে সাতকানিয়া থানার দক্ষিণ ঢেমসা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আনু মিয়া ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক ও সর্বভারতীয় কংগ্রেসের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাঁর বড় ভাই প্রফেসর আবু সুফিয়ান চট্টগ্রাম সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ, বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রনেতা ছিলেন।
আবু ছালেহ চট্টগ্রাম সরকারি বাণিজ্য কলেজ ও চট্টগ্রাম আইন কলেজে অধ্যয়ন করেন। ১৯৬১-৬২ খ্রিস্টাব্দে তিনি চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের কোষাধ্যক্ষ ও বাণিজ্য কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৬২-৬৩ খ্রিস্টাব্দে সহ সভাপতি ও চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩-৬৪ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম আইন কলেজের ছাত্র সংসদেরও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
আবু ছালেহ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন এবং ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে আইয়ুব খানের মার্শাল ল’ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব¡ দেন এবং ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে শরীফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেন। ১৯৬৪-৬৫ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদ আলী জিন্নার বোন মিস ফাতেমা জিন্নার নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।
আবু ছালেহ ১৯৬৭-৭১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। তিনি ৬ দফা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রাম ও ’৬৯-এর গণ অভ্যূত্থানে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সত্তরের নির্বাচনের রায় মেনে নিতে অস্বীকার করে এবং নানা রকম টালবাহানার মাধ্যমে সময় ক্ষেপণ শুরু করেছিলেন। অবশেষে জনমতের চাপে ৭১-এর ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান করেও আবার ১ মার্চ আকস্মিক বেতার ঘোষণা দিয়ে সংসদের পূর্বাহূত অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করলে বিক্ষুব্ধ বাঙালি জাতি তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়ে রাজপথে নেমে আসে। সাতই মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে ১০ লক্ষ মানুষের মহাসমুদ্রে বজ্রকণ্ঠে প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণে দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।
আবু ছালেহ মুক্তিযুদ্ধকালীন ৭ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সূচিত অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৭১ এর ২৪ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে সোয়াত জাহাজে করে পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনীর জন্য আনীত অস্ত্র ও গোলাবারুদ নামানোর চেষ্টা করলে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারী ও স্থানীয় জনতা তাতে বাধা প্রধান করে এবং বিক্ষুব্ধ শ্রমিক জনতার উপর পাকিস্তানি সৈন্যরা বহু মানুষকে হতাহত করে। আবু ছালেহ উক্ত ঘেরাও অভিযানের অন্যতম নেতা ছিলেন। তিনি ২৭ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহরে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান এবং পরে সাতকানিয়া গিয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠন ও পরিচালনায় নিযুক্ত হন। এপ্রিলে দেশত্যাগ করে তিনি ভারতের মিজোরামের ডিমাগিরিতে যান, সেখানে তখন বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ, হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের মুখে চৌদ্দ পুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে এক বস্ত্রে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে আশ্রয়গ্রহণকারী হাজার হাজার শরণার্থী এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের জন্য সমবেত অগণিত ছাত্র-নেতা নেতৃত্বহীন অবস্থায় সিদ্ধান্তহীনতায় কিংর্তব্যবিমূঢ় হয়ে হতাশ জীবন যাপন করছিলো, তখন আবু ছালেহর উপস্থিতি তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করে। তারা নবচেতনায় উজ্জীবিত হয়ে উঠে। আবু ছালেহ ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও বিএসএফ কমান্ডারের সঙ্গে আলোচনা করে শরণার্থীদের জন্য শরণার্থী শিবির ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন করতে তাদের সম্মতি আদায় করেন। অতঃপর সেখানে শরর্ণীদের বাসস্থান সমস্যার সমাধান হয় এবং মুক্তিযোদ্ধারা ট্রেনিং গ্রহণ করতে সক্ষম হন।
মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ডিমাগিরি থেকে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে তিনটি কলামে বিভক্ত করে ভারতীয় স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের সঙ্গে সমন্বিত করে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম মুক্ত করার জন্য ‘অপারেশন ঈগল’ নামে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। মধ্যম কলামে বিএলএফ-এর অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার শেখ ফজলুল হক মণি ভারতীয় গেরিলা যুদ্ধ বিশেষজ্ঞ জেনারেল সুজান সিং উবানকে সাথে নিয়ে পার্বত্যাঞ্চলের মধ্য দিয়ে রাঙামাটি মুক্ত করেন। এই কলামে বিএলএফ সদস্য চট্টগ্রামের যুবনেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও গোলাম রব্বান ছিলেন। উত্তর কলামে ভারতীয় কর্নেল পুরকায়স্থের নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর একটি দল খাগড়াছড়ি মুক্ত করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএলএফ-এর রণবিক্রম ত্রিপুরা। যৌথবাহিনীর দক্ষিণ কলামের নেতৃত্ব প্রদান করেন জনাব আবু ছালেহ মিত্রবাহিনীর কর্নেল নারায়ণকে সাথে নিয়ে। আবু ছালেহর সঙ্গে ছিলেন লোহাগাড়া নিবাসী কেপিএম-এর ইঞ্জিনিয়ার সিদ্দিক আহমদ। একমাত্র পূর্বাঞ্চলেই তারা হেলিকপ্টার ব্যবহার করেন। একসময় ডিমাগিরিতে জনাব শেখ ফজলুল হক মণি চিন্তা করেছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ছত্রীসেনা ইউনিট গঠনের। সেই লক্ষ্যে কিছু কিছু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছিল। পরিকল্পনাটি অবশ্য শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হয়। বান্দরবান মুক্ত করে দক্ষিণ কলাম চট্টগ্রাম শহরের মেরিন একাডেমীতে অভিযান চালায়। কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কক্সবাজার পর্যন্ত তারা মুক্ত করে। তারা চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমী পৌঁছে ১৪ ডিসেম্বর। কয়েকজন পাক-সেনা, রাজাকার ও রাজাকার কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ধরা পড়ে। ষোল তারিখ ভোরে পতেঙ্গা বিমানবন্দর এবং পাকিস্তান নেভির স্থাপনাগুলি আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু রাত্রিবেলা খবর আসে ষোল তারিখ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করবে। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ বাংলাদেশের স্বাধীন পতাকা হাতে জনাব আবু ছালেহ তাঁর অধীনস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে পদার্পণ করেন।
দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ শত্রুমুক্ত হলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে (খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান) তাঁর জারি করার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অফিস-আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।
স্বাধীনতা—উত্তরকালে বাংলাদেশ গণপরিষদের সদস্য হিসেবে তিনি নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন এবং দেশে পুনর্বাসন এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
আবু ছালেহ ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে বাকশাল গঠিত হলে তিনি দক্ষিণ জেলার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। পরে তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বাকশালের যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ আগস্ট তিনি ঢাকার রাজপথে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে তিনি আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ ও ৮১ খ্রিস্টাব্দে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি বৃহত্তর চট্টগ্রাম ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আবু ছালেহ ছাত্রজীবন থেকে আজীবন প্রতিটি জাতীয় ও ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন ও সংগ্রামে সক্রিয় যোগদান করেন। তিনি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্গত এলাকায় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সক্রিয়ভাবে ত্রাণকার্যে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।
রাজনীতির বাইরে আবু ছালেহ ব্যাংক বিমা পেশায় দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন। অন্যান্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে তিনি চট্টগ্রাম সরকারি বাণিজ্য কলেজের প্রাক্তন ছাত্র সমিতির ২০ বছর যাবত সভাপতি, ঈযরঃঃধমড়হম ওহংঃরঃঁঃব ড়ভ গধহধমবসবহঃ এর গভর্নিং কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাতকানিয়া ডিগ্র্রি কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিষদের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বৃত্তি প্রকল্প ও সাতকানিয়া লোহাগাড়া দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ থেকে সমবায় আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি দি কো অপারেটভ এন্টারপ্রাইজ লি. নামক সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির জীবন সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন ছাত্র সংগ্রাম কমিটির সভাপতি, সাতকানিয়া বিজয়মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (১৯৯৩ ও ১৯৯৪) ছিলেন।
আবু ছালেহ ৩ আগস্ট ২০২২ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa