- - -

আমার বিরুদ্ধে প্রাক্তনের অভিযোগের জবাব :

Print News

আমার বিরুদ্ধে প্রাক্তনের অভিযোগের জবাব : পর্ব-১

আকাশ ইকবাল

 

পরিচয় ও বিয়ে ::: সময়টা ২০১৮ সাল। আন্দরকিল্লা চেয়ারম্যান গলিতে ছিল অক্ষরবৃত্ত প্রকাশনীর কার্যালয়। আমি আগে থেকেই সেখানে যেতাম। টুকটাক কাজও করতাম। বইমেলার মাস তিনেক আগে গল্পের পাণ্ডুলিপি নিয়ে অক্ষরবৃত্ত আসেন ফারজানা ইয়াসমিন নামের একজন তরুণী। বোরকা এবং হিজাব পরতেন। প্রকাশক আনিস সুজন গল্পগুলোর সম্পাদনার দায়িত্ব আমাকে দিলেন। আমি প্রাথমিক সম্পাদনা করেছি। তার প্রথম এবং একমাত্র বই “নষ্ট শহরের নিষ্পাপ প্রাণ” বইয়ে কৃতজ্ঞতায় “আকাশ ইকবাল” নামটিও উল্লেখ আছে। সে যাই হোক, ফারজানা ইয়াসমিন বই প্রকাশ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রায়ই আসতেন। এভাবে আমাদের সবার সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠল। তখনও তিনি ফারজানা ইয়াসমিন, ফারজানা ফাইজা নন। ফারজানা ইয়াসমিন থেকে ইয়াসমিন শব্দটা কেটে ফাইজা যুক্ত করেন প্রকাশক আনিস সুজন। হয়ে গেলেন গল্পকার ফারজানা ফাইজা।

আমার কেন তাকে পছন্দ হলো? আমি প্রকাশককে বললাম, ভাই মেয়েটাকে আমার পছন্দ হয়েছে। আমার সঙ্গে একটা লাইন করে দাও। তখন প্রকাশক বললেন, ও একটা রিলেশনে আছে। রাহি নামের তার সাবেক এক কলিগের সঙ্গে তার প্রেম। তো আমি সেখানেই স্টপ হয়ে যাই।

এর মধ্যে বইমেলা চলে এলো। প্রকাশক আমাকে এক মাসের জন্য অক্ষরবৃত্তর স্টলের দায়িত্ব দিয়ে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন।

ঢাকা থেকে ফিরে এসে শুনি তার বিয়ের জন্য পরিবার তাকে চাপ দিচ্ছে। কিন্তু, তিনি চাটগাঁইয়া ছেলে পছন্দ করেন না বিয়ের বিষয়ে। এদিকে ওনার প্রেমিক রাহি এখন বিয়ে করবেন না চাপ জানিয়ে দিয়েছেন। প্রকাশক আনিস সুজন নিজে কয়েকবার কথা বলেছেন কথিত সেই রাহির সঙ্গে। তারপরও রাজি হননি। এদিকে ফারজানা ফাইজা পড়েছেন বিপদে। সপ্তাহ-দশ দিনের মধ্যে পছন্দের ছেলেকে উপস্থিত করতে না পারলে পরিবারের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করতে হবে।

এ সময় আনিস সুজন ভাই ফাইজাকে বলেন, আকাশ তোকে পছন্দ করে। ওরে তুই বিয়ে করবি। তুই রাজি থাকলে আমি আকাশের সঙ্গে কথা বলব। সে রাজি হলো। আনিস ভাই বিষয়টা আমাকে খুলে বলল। আমি বললাম, ভাই বউ চালানোর মতো চাকরি তো আমি করি না। তাছাড়া আমার পড়াশোনাও শেষ হয়নি।

সে সময় আমি সুপ্রভাত বাংলাদেশে ৬ হাজার টাকা বেতনে সবে শুরু করেছিলাম, আর অক্ষরবৃত্ততে টুকটাক কাজ করি। সে সময় আমি ডিগ্রি ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। যদিও তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ।

সুজন ভাই বললেন, তুই চিন্তা করিস না৷ সে তোদের বাড়িতে থাকবে, তুই সপ্তাহ সপ্তাহ বাড়িতে যাবি। মাসে চার পাঁচ হাজার বাড়িতে দিলে হয়ে যাবে। আমি বললাম, ভাই সব ঠিক আছে। আমার বাবা মা তো রাজি হবে না। সুজন ভাই বলল, প্রয়োজনে আঙ্কেল আন্টিকে আমি রাজি করাবো।

তো পরের শুক্রবারই আমরা আমাদের গ্রামে গেলাম। সুজন ভাই আমার মাকে বিষয়টা খুলে বললেন। আমার মায়ের প্রথম কথাটাই ছিল, বিয়ে পাস করার আগে বিয়ে! ওর তো এখনো বিয়ের বয়স হয়নি, নাক টিপলে দুধ বের হয়! যদিও সে সময় আমার বয়স ২৩। কিন্তু সুজন ভাইরা রাজি করিয়ে ফেলল।

একদিন শিল্পকলা থেকে অফিসে দুজন এক সঙ্গে ফিরছিলাম। সেদিন সে আমাকে বলল, আপনার সব কিছু ভালো লাগে, শুধু ধর্ম-রাজনীতি নিয়ে লেখালেখি ভালো লাগে না। আপনাকে এসব বন্ধ করতে হবে। আমি বলেছিলাম, ঠিক আছে। আমি আর লিখব না।

এবার বিয়ের দ্বিতীয় পর্ব শুরু। আমার বাড়ি থেকে আমার ভাই গিয়েছিল, ওর পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে, সেদিন আমার গার্ডিয়ান হিসেবে ছিলেন আনিসসুজন ভাইয়ের বাবা এবং সে নিজে।

বহদ্দারহাটে তার জেঠার দোকানে কথা বার্তা হলো ২ পক্ষের। সেখানে আমার ভাই চাটগাঁইয়া সংস্কৃতি যৌতুকের কথা তুললে আমি নিজে প্রতিবাদ করি। কারণ আমি য়ৌতুক দেয়া নেয়ার বিরোধী। ফাইজ ঠিক এই কারণেই আমাকে পছন্দ করত। তার পরিবার নিম্ন মধ্যবিত্ত। চাটগাইয়া জামাই এবং জামাইয়ের পরিবারের আবদারের দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খাবেন, এজন্য সে মূলন চাটগাঁইয়া ছেলেকে বিয়ে করতে চায় না। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, তার বাবা শারীরিকভাবে অসুস্থ (জন্মগত)। তার ধারণা হয়তো বা কোনো বড়লোক জামাই তার বাবাকে সেই শ্রদ্ধাবোধ করবে না।

যদিও তার পরিবার সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণাই ছিল না। আমি কোনো খোঁজ খবরও নিইনি। কারণ, আমার কাছে আমার পছন্দের মানুষটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে, আমার এক পরিচিত ভাই নিজ উদ্যোগে তার পরিবার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়েছেন, যেহেতু পাশের এলাকায় তারও শ্বশুর বাড়ি। তার বাবা কি করেন, মা কি করেন। তাদের পরিবারের আয়ের উৎস কী। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ভাই তার বাবা-মা কী কাজ করেন সেটা আমার জানার দরকার নাই, মেয়েটা কেমন? তার উত্তর ছিল মেয়েটা ভালো। আমারও এটাই দরকার ছিল।

এবার শুরু হলো বিয়ের তৃতীয় পর্ব। দেয়া-নেয়া। তখন আমার ভাই যৌতুক হিসাবে ৫ লাখ টাকা চাইল। আমি এর বিরোধী করে বলেছিলাম, আমি এক টাকা যৌতুকও নেব না। আমার ভাইয়া আমাকে একপাশে নিয়ে গিয়ে চুপিচুপি বলল, বিয়েতে তো অনেক খরচ, আমাদের হাতে তো এখন কোনো টাকা নেই, সেজন্য বলেছিলাম। আমি বলেছিলাম, আগে বিয়েটা ঠিক হোক, বাকিটা পরে দেখা যাবে।

ফাইজার পক্ষের মানুষরা যৌতুক দিবেন না জানালেও, কিন্তু কাবিন প্রথমে ১৫ লাখ চেয়ে বসেন। পরে সেটা ১০ লাখে ফিক্সড করলেন।১০ লাখ দিতেই হবে। এর চেয়ে কম হলে তাদের সম্মান থাকবে না সমাজে। কারণ, তার এক জেঠাতো বোনের কাবিন ছিল ২০ লাখ।

আমি এবং আমার ভাই এতে অস্বীকৃতি জানাই। কারণ, ১০ লাখ টাকা কাবিন দেয়ার মতো যোগ্যতা আমার ছিল না। আমার মাসিক আয় ছিল ৬ হাজার। তাছাড়া, আমি যৌতুকের বিরুদ্ধে যেমন ছিলাম তেমনি কাবিনের বিরুদ্ধেও। আমরা অনেকটা না করে দিলাম এবং ফিরে আসলাম।

এর মধ্যে তাদের বাড়িতে ঘটে গেল ভিন্ন এক ঘটনা। তার আপন জেঠা আমাকে এবং তাকে নিয়ে তার মায়ের সঙ্গে বাজেভাবে চিল্লাচিল্লি করল। আমাদের নাকি অনেক বছরের সম্পর্ক ছিল, আমি নাকি গোপনে তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। অথচ, সত্য হলো আমি জীবনে ওই গ্রামেই যাইনি৷ বাড়ি তো দূরের কথা। বিয়ের দিন পর্যন্ত আমি জানতাম না, ওদের বাড়ি কেমন, ঘর কেমন।

পরের দিন সকালে ফাইজা আমাকে ফোন করে কান্নাকাটি করছিল। তার কান্নার শব্দ শুনে আমার ভেতরেও মোচড় দিয়ে উঠল। সে বলল, আপনি যেভাবে হোক আমাকে এখান থেকে নিয়ে যান। না হয় আমরা বাঁচবো না। কারণটা জানালো। তার জেঠার অপমান।

সুজন ভাইকে বললাম কথা আগাও। বিয়েটা তাড়াতাড়ি ঠিক করো।

এর মধ্যে একদিন ওর আন্টি এলো অক্ষরবৃত্ত অফিসে। কথা হলো, তোমাকে ১০ লাখ টাকা তো নগদ দিতে হবে না। ওটা শুধুমাত্র নামে সেখানে উল্লেখ থাকবে। কখনো যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে তোমাকে এই টাকা পরিশোধ করতে হবে না৷ এতে আমি কিছুটা সাহস পেলাম।

আমার পরিবার রাজি না থাকা সত্ত্বেও রাজি করালাম। সব দায়িত্ব কাঁধে নিলাম।

বিয়ে ঠিক হলো। আপাতত আকত হবে৷ পরে কয়েক মাস পর আনুষ্ঠানিক আমার ঘরে তুললাম।

চলবে…

পরের পর্বে প্রথম ৩ তালাক বলার সঠিক কারণ জানাবো। ও যা উল্লেখ করেছে তা পুরোপুরি ঠিক না।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa