রবিবার - ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

রবিবার - ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

ফুলবাড়ীতে মাদ্রাসার শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও পরীক্ষা বর্জন

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খাজাপুর একরামিয়া ফাযিল (স্নাতক) মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক (গণিত) মো. রশিদুল ইসলাম কে মারধর ও লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন ও পরীক্ষা বর্জন করেছে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক কর্মচারীরা। সোমবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনয়নের খাজাপুর একরামিয়া ফাযিল মাদ্রসার সম্মুখ সড়কে দাড়ীয়ে শিক্ষক লাঞ্ছিতকারী উশৃঙ্খল যুবকদের বিচার দাবিতে ঘন্টাব্যাপি এই মানববন্ধন করেন ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক কর্মচারীরা। জানাগেছে,গত ২৮ মে ওই মদ্রাসার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর (নাম প্রকাশ যোগ্য নয়) মুখের মাস্ক খুলতে বলেন, সহকারী অধ্যাপক মো. রশিদুল ইসলাম। বিষয়টি ওই ছাত্রী তার অভিভাবককে জানালে, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে,ওই দিন ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (১ জুন) মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি, অধ্যক্ষ এইচ এম মাহবুবুর রহমান ওই ছাত্রীর পরিবারের লোকজনসহ শিক্ষকরা বৈঠক করেন। এতে শিক্ষকের দোষ প্রমাণ না হলেও মাদ্রাসার সুনাম রক্ষার্থে শিক্ষক শিদুল ইসলাম সকলের সম্মুক্ষে ওই ছাত্রী ও তার বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। বিষয়টি সেখানেই মিমাংসা হয়। ওই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিমাংসা হওয়ার ৩ দিন পর রোববার (৪ জুন) মাদ্রাসায় ঢুকে স্থানীয় উশৃঙ্খল যুবক ২০-২৫জন যুবক ওই শিক্ষকের ওপর হামলা করেন। পরে অন্যান্য শিক্ষকরা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় ফুসে উঠেছে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মহল।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলার এলুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন খাজাপুর একরামিয়া ফাযিল স্নাতক মাদ্রাসায় মাধ্যমিকের অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ক্লাস বর্জন করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা মানববন্ধন করছেন। ওই মানববন্ধন থেকে শিক্ষকরা এই ন্যাক্কার জনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যামিক শ্রেণির ক্লাস ও মাধ্যমিক শ্রেণির অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, মিমাংসার তিন দিন পর রোববার (৪ জুন) ওই ছাত্রীর ভাই রমজান আলী, মৃত ওসিয়ার রহমানের ছেলে আল আমীনসহ ২০-২৫ জনের একটি দল মাদ্রাসায় প্রবেশ করে শিক্ষকদের রুমে ঢুকে ওই শিক্ষককে এলোপাথারি মারধর করেছে। আমরা দোষীদের বিচার চাই। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিৎ না হওয়া পর্যন্ত মাধ্যমিক পর্যায়ের চলমান অর্ধবাষিকী পরীক্ষা ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব ধরনের ক্লাস বর্জন চলবে। অভিযুক্ত রমজান আলীর সাথে কথা বললে তিনি জানান,বিষয়টি নিয়ে বসার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান আমাদের ডেকেছে,ম্যানেজিং কমিটির সাথে বসে আলোচনা করা হবে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এইচ এম মাহবুবুর রহমান বলেন, একটা তুচ্ছ বিষয় আমরা আলোচানা করে মিমাংসা করেছি। মিমাংসিত বিষয়ে প্রতিষ্ঠানে ঢুকে শিক্ষককে মারধর করার ঘটনার দিন আমি ঢাকায় ছিলাম। মুঠোফোনে শুনে কাজ ফেলে চলে এসেছি। বিষয়টি মাদ্রাসার সভাপতি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিল্টনকে অবগত করেছি। মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিল্টন জানান,সকলদিক বিবেচনা করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ,শিক্ষকগণ এবং স্থানীয়দের সাথে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিস্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যাক্তি সকলের সম্মুখে ওই শিক্ষকের পা ধরে ক্ষমা চেয়েছে। সকলের সম্মতি ক্রমে দু’পক্ষের মধ্যে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn