স্বাস্থ্যখাতের বাতিঘর ডা. জাফর আহমদ হাকিম
কমিউনিটি প্যারামেডিক উন্নয়নে নেতৃত্ব, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাতৃ-শিশুস্বাস্থ্য সেবায় নতুন দিগন্ত — দক্ষিণের গর্ব, দেশের অহংকার
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের দক্ষতা উন্নয়ন ও কমিউনিটি প্যারামেডিক ব্যবস্থার অগ্রযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন প্রখ্যাত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. জাফর আহমদ হাকিম। বর্তমানে তিনি সুইসকন্ট্যাক্ট-এর ‘আস্থা প্রকল্প’-এর সিনিয়র অ্যাডভাইজার হিসেবে যুক্ত আছেন, যা দেশের ১২টি জেলায় কমিউনিটি প্যারামেডিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রান্তিক মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিরলস কাজ করছে।
মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য খাতে অবদানের জন্যও তিনি সমধিক পরিচিত। মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য (MCH) বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশের মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাসে তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করেন। সরকারি চাকরি থেকে ২০০৮ সালে অবসর গ্রহণের পরও তাঁর পথচলা থামেনি — ২০১১ সালে সুইসকন্ট্যাক্ট-এর টারসান প্রকল্পের মাধ্যমে তিনটি জেলায় প্যারামেডিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করেন, যা ২০১৬ সালে রূপান্তরিত হয়ে ‘আস্থা প্রকল্প’ নামে দেশের ১২টি জেলায় সম্প্রসারিত হয়।
সিলেট, সুনামগঞ্জ, বরগুনা, লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, পটুয়াখালী, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, মৌলভীবাজার ও বরিশালে কমিউনিটি প্যারামেডিকদের শিক্ষা, বৃত্তি, প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম বিতরণের কার্যক্রম তাঁর হাত ধরেই বাস্তবাহিত হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে ডা. হাকিমের একাডেমিক অর্জনও অনুকরণীয় — লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন থেকে ‘মাস্টার্স অব সায়েন্স ইন কমিউনিটি হেলথ ইন ডেভেলপিং কান্ট্রিজ’ (১৯৮৯–১৯৯০) এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস (১৯৭০–১৯৭৭) সম্পন্ন করেছেন।
মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য, গ্রামীণ স্বাস্থ্য উন্নয়ন, প্রোগ্রাম ইভ্যালুয়েশন, এনজিও ম্যানেজমেন্ট, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে রয়েছে তাঁর বিশেষ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা।
বাংলাদেশ কমিউনিটি প্যারামেডিক এসোসিয়েশনের সভাপতি জনাব আবু হানিফ বলেন, “ডা. জাফর আহমদ হাকিম স্যার শুধু একজন বিশেষজ্ঞ নন — তিনি এক অনন্য পথপ্রদর্শক, যার পরামর্শ ও প্রেরণায় গ্রামের দরিদ্র মানুষও আজ দক্ষ প্যারামেডিক সেবার সুফল পাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার যদি নীতিগতভাবে কমিউনিটি ক্লিনিক ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক নিয়োগের সুযোগ তৈরি করে, তবে দক্ষ জনশক্তি সংকট যেমন দূর হবে, তেমনি প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় সুলভ স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো সহজ হবে।”
দক্ষিণাঞ্চলের সন্তান হিসেবে ডা. হাকিমের এই অবদান তাঁর নিজ এলাকা ও দেশের জন্যই গর্বের বিষয়। এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও ক্রমাগত সাফল্য কামনা করা হয়েছে।
ডা. জাফর আহমদ হাকিমের মতো প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব ও দূরদৃষ্টি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে — এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের। তাঁর নিরন্তর প্রচেষ্টা ও অদম্য উদ্যোগই অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে আগামী দিনের জন্য।