- - -

স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, প্রবাসে উপার্জিত অর্থ হারিয়ে টঙ্গীতে রেললাইনের পাশে ডিম বিক্রি করছেন

img 20261020 wa0384
Print News

স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, প্রবাসে উপার্জিত অর্থ হারিয়ে টঙ্গীতে রেললাইনের পাশে ডিম বিক্রি করছেন

 

জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়ে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন প্রবাসী সেকু মিয়া। বর্তমানে গাজীপুরের টঙ্গীর বনমালা এলাকায় রেললাইনের পাশে ডিম বিক্রি করে কোনোরকমে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী রত্না বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করার পরও চুক্তি অনুযায়ী টাকা ফেরত পাননি তিনি। এ ঘটনায় আদালতে মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টিও সামনে এসেছে। সেকু মিয়া বলেন জীবিকার সন্ধানে ২০১৮ সালে সৌদি আরবে যান তিনি। প্রবাসে থাকাকালে শরিয়তপুর পালং থানাধীন শোলপাড়া এলাকার মুঠোফোনে রত্নার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারপর থেকেই বিয়ের আগেই বিভিন্ন সময় ব্যাংক হিসাব ও বিকাশের মাধ্যমে তাঁকে টাকা পাঠাতেন । পরে ২০২২ সালের ৩ নভেম্বর শরীয়তপুরের সেকু মিয়া বাংলাদেশে আসলে পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে রত্না বেগমের সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়েতে তিন লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়। সেকু মিয়ার অভিযোগ, দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে উপার্জিত অর্থের বড় অংশ তিনি স্ত্রী রত্না বেগম ও তাঁর শাশুড়ি নাসিমা আক্তারের কাছে পাঠিয়েছেন। ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় নগদেও টাকা দিয়েছেন। বিয়ের প্রায় তিন মাস পর তিনি আবার সৌদি আরবে ফিরে যান। এ সময় বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে দফায় দফায় অর্থ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একপর্যায়ে স্ত্রীর অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে সে জানতে পারে এবং এ-সংক্রান্ত কিছু নোংরা ছবি ও ভিডিও তাঁর হাতে আসে। এরপর নিজের উপার্জিত অর্থের হিসাব চাইলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। অর্থ ফেরত চাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে শরীয়তপুরের পালং এলাকায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। অন্যদিকে, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনি নিজেও রত্না বেগমসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার ধারাবাহিকতায় রত্না বেগমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা চার কিস্তিতে পরিশোধের বিষয়ে সমঝোতা হয়। চার কিস্তিতে ১৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করার পরে উভয়পক্ষ মামলা প্রত্যাহার করে নেবে বলে অঙ্গীকারনামা করা হয় এ বিষয়ে ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি করা হয় কিন্তু নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ না করে রত্না বেগম আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ সেকু মিয়ার। বর্তমান দুরবস্থার কথা তুলে ধরে সেকু মিয়া বলেন, “বিদেশে দীর্ঘদিন কষ্ট করে যে অর্থ উপার্জন করেছি, তা হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। রেললাইনের পাশে ডিম বিক্রি করে কোনোরকমে দিন কাটাচ্ছি। আমি আমার পাওনা টাকা ফেরত চাই এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। তিনি আরও বলেন, তাঁর মতো অন্য কোনো প্রবাসী যেন উপার্জিত অর্থ হারিয়ে এমন পরিস্থিতির শিকার না হন, সে জন্য সরকার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। অভিযোগের বিষয়ে রত্না বেগমের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে ফোনটি তাঁর ফোনটি তার ফুফু কলি রিসিভ করে তিনি জানান, রত্না বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa