সুন্দর ও নিরাপদ বাংলাদেশ চাই
গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। স্বাধীনতা মানে,মানুষের বাকস্বাধীনতাসহ অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা এক কথায় মৌলিক সব অধিকার থাকতে হবে। দেশ দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে সর্ব ক্ষেত্রে। কিন্তু আজ শিশু ও নারীর নিরাপত্তা নেই। শিশু নির্যাতন যে হারে বাড়ছে তা দুঃখজনক। সরকার প্রতিরোধের চেষ্টা করেও সফল হচ্ছে না। জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দুর্নীতির রেশ টেনে ধরতে হবে। সমাজে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এমন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চাই, যেখানে বৈষম্য হ্রাস পাবে। সর্বশেষ কুমিল্লার তাজমিন ধর্ষণ ও হত্যা। এর আগে অপ্রতিম হত্যা সহ সারাদেশে হত্যা,নির্যাতন ও ধর্ষণের মত ঘটনা অহরহই ঘটছে। শিশুরা এত দিন ছিল খচায় বন্দি। এখন তাঁদের দিকে হাত বাড়াচ্ছে হায়েনারা। শিশু স্কুলে যাবে, মাকে আগলে রাখতে হয়. ফিরছে, তখনো মাকে আগলে নিরাপত্তা পাচ্ছে? এরা কোনো মুক্ত বিহঙ্গ হতে পারছে না। শিশু অপহরণ বাড়ছে। অভিভাবকদের ভয় ও উৎকণ্ঠা বেড়ে চলেছে। সব ধর্ম ও মতের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে হবে। সুখী, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা চাই। কর্মদক্ষতা ও সততার প্রয়োগ করা গেলে এমন স্বপ্নের বাস্তবায়ন সহজ, রক্ষা করা কঠিন। এই কঠিন সময় আমরা এখন পার করছি। মানুষে মানুষে হানাহানি কমছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়ছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় আরো সফলতা হওয়ার কথা ছিল। দেশ কৃষি খাতে আধুনিক কৃষিনির্ভর হয়ে ওঠেনি। দাবি করা হয় বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ । এই অর্জনে কি আমরা সফল? দেশের নায়ক দেশের কৃষক। দেশের কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের অগ্রগতি খুবই সামান্য হওয়ায় আক্ষরিক অর্থেই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষকরা ক্ষেতের ফসল ফলান। বন্যা, খরা, অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো আছেই , তার ওপর আছে বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের সংকট এবং কীটনাশক, সার ইত্যাদির চড়া মূল্য। এতসব সংকট মোকাবিলা করে ফসল ফলিয়েও কৃষকরা যদি ফসল বিক্রি করে উৎপাদন খরচ মেটাতে না পারেন তাহলে পুঁজিহীন কৃষকরা বাঁচবে কী করে? কৃষি খাতের উন্নতিও সবার লক্ষ্য ছিল। বর্তমানে স্বাধীনতা ও প্রকৃতি বিরোধীরা স্বাধীন বাংলায় প্রাকৃতিক সম্পদ, পশুপাখি, বন্যপ্রাণী, নদী, জলাশয়, পাহাড়, বন-জঙ্গল ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে। আমরা স্বাধীন হয়েও প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছি প্রতিনিয়ত। যে প্রকৃতি আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে, তাদের আমরা রক্ষা না করে ক্রমাগত ধ্বংস করছি। অপরূপ বাংলাদেশ তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে বিশ্বে আলো ছড়াক। বেকারত্ব আমাদের দেশে যেন একটা অভিশাপ হয়ে গেছে। দেশে এখনো একদল শিক্ষিত যুবক বেকার রয়েছে। কর্মসংস্থান না পেয়ে লাখো যুবক পথে পথে ঘুরে। চাকরিতে সীমিত পদের জন্য হাজার হাজার আবেদন পড়ে। এত আবেদনকারীর মাঝে নিজেকে অসহায় লাগে। এমন পরিস্থিতিতে চাকরি না পেয়ে দুশ্চিন্তায় কুরে কুরে খায় অগণিত যুবককে। আর যখন কোনো শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষিত হয়ে বের হয় তার জন্য তো আরো বেদনাদায়ক। কর্মসংস্থানসমৃদ্ধ দেশ ছিল সবার একান্ত আশা। এ দেশের যোগাযোগ খাতের উন্নতি হলেও তা আশানুরূপ নয়। যতটুকু উন্নত যোগাযোগ মাধ্যম প্রয়োজন ছিল ততটুকু হয়নি। দেশে সড়কে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এ মিছিল অপ্রতিরোধ্য। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনা ঘটছে। মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে এবং আহত হচ্ছে। সড়ক দুঘটনার কারণগুলো অনেক আগেই শনাক্তকৃত। কী করলে দুর্ঘটনা ও মৃত্যু কমিয়ে আনা সম্ভব, তাও বিশেষজ্ঞরা বহুবার বলেছেন। তারপরও কিছু হচ্ছে না। আমরা বিশ্বাস - করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো সচেতন, তৎপর ও দায়িত্বশীল হলে সড়ক দুর্ঘটনার অভিশাপ থেকে দেশকে একেবারে মুক্ত করা সম্ভব না হলেও দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনা অবশ্যই সম্ভব। তাই যোগাযোগ খাতের আরো উন্নতি কামনা করছি। এ দেশের শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারেনি। আশা করি, আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌছাব। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যে বাংলাদেশে থাকবে না মাদক, দুর্নীতি, থাকবে না প্রশ্নফাঁস, থাকবে না হানাহানি, কোনো বোন ধর্ষিতা হয়ে পড়ে থাকবে না, কিংবা লাশ হয়ে কলঙ্কের দাগ নিয়ে পরে থাকতে হবে না কোথাও, কেউ ক্ষুধার জ্বালায় চিৎকার করবে না, সড়কের দুর্ঘটনায় কেউ হারাবে না প্রাণ, বৈষম্য রবে না, একটি মানুষও কাঁদবে না, এই বাংলায়। কমবে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য। এ ছাড়া রাজনীতিবিদরা হবেন সৎ, শিক্ষিত ও দক্ষ। মানুষ হবে আরো মানবিক, আরো সুসংগঠিত। সবার হাত ধরে গড়ে উঠবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শভিত্তিক সোনার বাংলাদেশ। দেশের প্রতিটি নাগরিক হয়ে উঠুক আলোকিত মানুষ. তাহলেই আলোকিত হবে সমাজ ও দেশ।
লেখক: গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির, সাংবাদিক, লেখক ও সংগঠক।চেয়ারম্যান- গাউছিয়া ইসলামিক মিশন, সভাপতি, আলোকিত যুব উন্নয়ন সংস্থা, বুড়িচং, কুমিল্লা। ০১৭১৮২২৮৪৪৬