সুনামগঞ্জে রাতে তরুণীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ, থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাদাঘাট (দক্ষিণ) ইউনিয়নের মানিকঠিলা গ্রামে রাতে ঘর থেকে বের হওয়ার পর এক তরুণীকে টানাহেঁচড়া, মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে বিশ্বম্ভরপুর থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সুনিয়া আক্তার (২০)।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সুনিয়া আক্তার মানিকঠিলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাবের মেয়ে। গত ১৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বাদাঘাট (দক্ষিণ) ইউনিয়নের মানিকঠিলা সাকিনে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে সুনিয়া আক্তার দাবি করেন, অভিযুক্তরা একই গ্রামের আশপাশের বাড়ির বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা অসৎ উদ্দেশ্যে তাঁর বসতবাড়ির আশপাশে এবং যাতায়াতের রাস্তায় তাঁকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত ও উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। তিনি অভিযুক্তদের একাধিকবার বাধা-নিষেধ করলেও তাঁরা তাতে কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার রাতে প্রাকৃতিক ডাকে ঘুম থেকে জেগে সুনিয়া আক্তার ঘর থেকে বাইরে বের হলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রথম অভিযুক্ত আজিজ মিয়াসহ অন্য অভিযুক্তরা তাঁর কাছে উপস্থিত হন। এ সময় তাঁরা তাঁর মুখ চেপে ধরে টানাহেঁচড়া করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একপর্যায়ে তাঁর পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তাঁকে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আত্মরক্ষার জন্য চিৎকার শুরু করলে দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ অভিযুক্ত তাঁকে কিল-ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে লাথি মারেন বলেও অভিযোগ করেন সুনিয়া।
এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা ও বেদনাদায়ক জখম হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে থাকা সাক্ষীদের সামনে অভিযুক্তরা তাঁকে উদ্দেশ করে অশ্লীল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা তাঁকে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দেন। ঘটনার পর তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও আহত হয়ে বিশ্বম্ভরপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
অভিযোগে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—আজিজ মিয়া (৫০), মোস্তফা (৪০), আরাফান মিয়া (৩৫), নিজাম উদ্দিন (৪০), নুর নবী (৩০) ও এনামুল (২৮)। অভিযোগপত্রে তাঁদের পিতার নাম ও ঠিকানাও উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় সুনিয়া আক্তার ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিশ্বম্ভরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
তবে থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাইসাপেক্ষ। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তে ঘটনার প্রকৃত তথ্য ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারিত হবে।