সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিংয়ে
শ্রমিক হতাহতের ঘটনায় গ্রীণ চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের বিবৃতি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে পুরানো জাহাজের একটি ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজ হয়ে ছড়িয়ে যাওয়া গ্যাসের ধোঁয়ায় গত ১৪ আগস্ট, শুক্রবার, সকালে নয় জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং বহু শ্রমিক আহত হয়েছেন।
এতে চট্টগ্রামের পরিবেশ, জলবায়ু, কৃষি, স্বাস্থ্য ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রীণ চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্স গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংগঠনের সভাপতি ও পরিবেশ সংগঠক স ম জিয়াউর রহমান, সদস্য (এডমিন) আকতার হোসেন নিজামী, সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস বৃষ্টি, আয়েশা সিদ্দিকা, মুজিবুর রহমান, মোহাম্মদ কায়সার এক যুক্ত বিবৃতিতে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুতে গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছেন। তারা নিহত শ্রমিকদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং একইসাথে আহত শ্রমিকদের সুস্থতায় দোয়া কামনা করেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, বিগত সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গ্রীন শিপইয়ার্ড নামে কাজ করে আসছে। এর পরেও বিভিন্ন সময়ে সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডগুলোতে নানা অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটলেও উপযুক্ত আইনি প্রয়োগ না থাকার ফলে বারবার এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকদের জীবনের মূল্য কিছু টাকার মাধ্যমে তুলে ধরে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এবারের ঘটনায় যেন ন্যায়বিচার ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যত্যয় না ঘটে সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য অনুরোধ রইল। তারা আরো বলেন, সরকার ইতিমধ্যে নিহত পরিবারকে নিহত শ্রমিকের মূল্য ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে, এটি একজন শ্রমিকের জীবনের মূল্যের যথেষ্ট হতে পারে না। তারা প্রত্যেক নিহত শ্রমিকের পরিবারকে অন্তত ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজন সদস্যকে যথাযথ চাকরির ব্যবস্থা করে নিহত পরিবারগুলোকে জীবন ধারণের নিশ্চিত ব্যবস্হা করতে হবে।
তারা আরো বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, দোষী সাব্যস্থদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিতকরণ, অভিযুক্ত শিপইয়ার্ডের লাইসেন্স বাতিল, অভিযুক্তদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, হতাহত পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে আগামী ২৩ আগস্ট স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।