সিলেট বন গিলে খাচ্ছে ডিএফও হুমায়ুন কবির সিন্ডিকেট
সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির । ২০২৩ সালে ২১ অক্টোবর সিলেট বিভাগে যোগাযোগ দান করেন । তিনি ফেনি জেলার বাসিন্দা । পানি সম্পদ , পরিবেশ , বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এর আস্থাভাজন চাচাতো ভাই হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ লিয়াকত হাসানকে আঁতাত করে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বিভিন্ন দুর্নীতি অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে ভাগাভাগি চলছে । ২০২৩ সালে ২১ অক্টোবর সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ( ডিএফও) হুমায়ুন কবির দায়িত্ব গ্রহন করার পর থেকে বন সিলেট বন বিভাগকে গিলে খাচ্ছে এবং দেখার জেন কেউ নেই । অন্যদিকে সিলেটের বন বিভাগের ডিএফও তাঁর পছন্দ লোককে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বদলি বানিজ্য , পাহাড়ের গাছ পাচার সহ বিভিন্ন দুর্নীতি অনিয়ম করে যাচ্ছে কিন্তু কারও কথা শুনতে রাজি নন । খোদ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির প্রত্যেক্ষ ইন্ধনে চলছে গাছ পাচার , সংরক্ষিত বন উজাড় , পারমিট বিহীন গাছ কাটা, বদলি নীতিমালা বহির্ভূত পোস্টিং বানিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জন সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে । এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন বিভাগে নজরদারি না থাকায় সিলেট বিভাগে পাহাড়ি গাছ উজাড় ও বন কর্মকর্তা ঘুষ বাণিজ্য চলছে । সিলেট বিভাগে প্রতিটি ফরেস্ট রেঞ্জ ও বন বিট আড়ালে লট আকারে গাছ পাচারে সহযোগিতা করেছে বলে সূত্রে জানা গেছে । না হলে ইস্যুকৃত কাঠের বিপরীতে যে টিপি দেওয়া হয়ে থাকে । অবশিষ্ট কাঠ ডিপোতে মজুত থাকার কথা ছিল । সিলেটে প্রত্যেক ফরেস্ট রেঞ্জ , ফরেস্ট বন বিট ও ফরেস্ট চেক পোস্ট স্টেশন কাগজে - কলমে কাঠ আছে , বাস্তবে নাই বা জব্দ করে নাই । প্রতিদিন শত শত ঘন ফুট কাঠ রাতের আঁধারে বা ভূয়া টিপির মাধ্যমে মূল্যবান কাঠ সড়ক দিয়ে পাচারের সহযোগিতা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে অভিযোগ পাওয়া যায় । বেশির ভাগ বাহুবলে পুটিজুরী বন বিট , সাতগাঁও , চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা এলাকায় পাহাড়ের গাছ পাচার হচ্ছে । এ গাছ পাচারের মূল রহস্য হচ্ছে চুনারুঘাট উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ লিয়াকত হাসান বাড়িতে গত রমজান মাসে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে ইফতার পার্টি করে বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির এবং চেয়ারম্যান বাড়িতে প্রতি মাসে অসংখ্য মুরগ দেওয়া হয় । উপদেষ্টা কাছে তদবির জন্য সাবেক চেয়ারম্যানকে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে আঁতাত করে বিভিন্ন ভাবে ফায়দা হাসিল করে নিচ্ছে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির অভিযোগ রয়েছে । অনুসন্ধানে আরো জানা যায় , সিলেট বন বিভাগে প্রতিটি ক্ষেত্রে ঘুষের হার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে সিলেটের বন কর্মকর্তা (ডিএফও) । ঘুষের হারের মাধ্যমে রয়েছে , টিপি । এ থেকে সিলেটের ডিএফও ৫০ হাজার টাকা । জোত পারমিটে নেওয়া হয় প্রতি ঘনফুটে ৬০ টাকা । এর মধ্যে ডিএফও ৫০ টাকা । অন্যদিকে সিলেট বন বিভাগে একটি বিশেষ টহল বাহিনী গঠন করেছে । টহল বাহিনী মাধ্যমে পুরো সিলেট বন বিভাগে চাঁদাবাজি করে লাখ লাখ টাকা আদায় করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে । দীর্ঘ দিন ধরে পুরো সিলেট বিভাগে পারমিট বিহীন বিভিন্ন প্রজাতি মূল্যবান গাছ কাটার হিড়িক পড়লে ও বিশেষ বাহিনী কর্তৃক আটক হওয়ার ঘটনা ঘটলেও ধামাচাপা দিয়ে চলে যায় । সিলেট বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির এর মনোনীত ফরেস্টার মাধ্যমে বন বিভাগ এসব নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছেন । অনুসন্ধানে আরো জানা যায় , সিলেটে তার মনোনীত বেশ কয়েকজন ফরেস্টার সিন্ডিকেট তৈরি করে তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৪ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকা বিনিময়ে এক বছর পোস্টিং মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরে ও প্রায় ২ বছর হতে চলছে । তবু বদলি করেননি ধামাচাপা দিয়ে রাখছে ডিএফও । আর এই অতিরিক্ত টাকা আদায়ের জন্য মদদদাতা সাবেক চেয়ারম্যানকে দিয়ে উপদেষ্টা নাম বিক্রি করে সিলেট বিভাগে পারমিট বিহীন বিভিন্ন প্রজাতি মূল্যবান পাহাড়ের গাছ উজাড় হয়ে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা করাত কল ও ফার্নিচার দোকানে যাচ্ছে । আর টাকা যাচ্ছে সিলেটের ডিএফও এবং লিয়াকত হাসান এর পকেটে । যার প্রমাণ হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল , চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলায় উর্ধতন কর্তৃপক্ষ সঠিক তদন্ত করলে পাওয়া যাবে । এছাড়া ঘুষ বাণিজ্য সহ বিভিন্ন দুর্নীতি অনিয়ম ও প্রমাণ পাওয়া যাবে । সূত্রে বলছে , বদলি বানিজ্য আর ঘুষের আখড়ায় পরিণত হয়েছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা । যারা ঘুষের টাকা দিতে অপারগতা কিন্তু তাদেরকে বিভিন্ন নার্সারী বা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় থাকতে হচ্ছে বছরের পর বছর । সিলেটের বন বিভাগে যে কেউ বদলি হতে গেলে লিয়াকত হাসান এর বাড়িতে টাকা ও মুরগী নিয়ে গেলে সমস্যা সমাধান হয় বলে অভিযোগ রয়েছে । এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বক্তব্য নেওয়ার জন্য মোবাইল ফোন দিয়ে জানতে চাইলে একাধিক বার ফোন করার পরে ও রিসিভ করেন নি ।