সাতক্ষীরা বেতনা পাড়ের জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ও টেকসই উদ্যোগ জরুরি
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম এখন ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত। টানা কয়েক সপ্তাহের ভারী বর্ষণে এলাকার ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার, কৃষিজমিÑ সবকিছুই পানির নিচে। জলাবদ্ধতার কারণে গোটা জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসী এ সমস্যা নিয়ে আন্দোলন, অভিযোগ ও অনুরোধ করে আসছেনÑ কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান আসেনি। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বিভিন্ন পত্রিকায় গুরুত্বের সাথে ছাপা হয়েছে।
প্রতিবেদনে স্থানীয়দের বরাতে বলা হয়, তাদের নিজ বাড়িসহ গোবিন্দপুরের অধিকাংশ পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রান্না, গোসল, টয়লেটÑ সবই এখন চরম দুর্ভোগের নাম। একদিকে বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়া পানি, অন্যদিকে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। শিশুরা খেলতে গিয়ে পানিতে পড়ে যাচ্ছে, সাপের উপদ্রবও বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে।
বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে গেছেÑ শিক্ষার চাকা একেবারে থেমে গেছে। মাছ চাষিদের ঘের পানিতে ভেসে গেছে, কৃষকের ধানের বীজতলা, পাট ও সবজি ক্ষেত পানির নিচে। কেউ কেউ সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন। এই এলাকায় বহু মানুষ মূলত কৃষি ও মৎস্যনির্ভরÑ তাদের জীবিকা আজ হুমকির মুখে।
এতবড় দুর্যোগেও তেমন কার্যকর সরকারি সাড়া নেই বলেই অভিযোগ স্থানীয়দের। জেলা প্রশাসন কিছু প্রাথমিক সহায়তা দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয় এবং দীর্ঘমেয়াদি নয়। কয়েক মাস আগে পানি নিষ্কাশনের একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও তা অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। নিয়মিত খাল-নালা পরিষ্কার করা হয়নি, না হয়েছে প্রয়োজনীয় পাম্পিং বা জলাধার নির্মাণ। ফলে বর্ষা এলেই গোবিন্দপুরসহ এই এলাকার মানুষকে একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এলাকাবাসী দাবি করছেনÑ এখন আর সাময়িক উদ্যোগে চলবে না, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান। তারা জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ইতোমধ্যে ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কিছু জায়গায় বাঁধ মেরামত, নালা কাটা বা পাম্প বসানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে তা অনেকটা বিলম্বিত ও সীমিত। এই সংকট মোকাবিলায় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া কোনো কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।
আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই: গোবিন্দপুরের এই জলাবদ্ধতা কেবল একটি মৌসুমি দুর্যোগ নয়Ñ এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের চিত্র। তাই এখনই পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল খনন, স্লুইসগেট ও পাম্পিং স্টেশন স্থাপন, অবৈধ বাঁধ অপসারণ ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে একটি স্থায়ী সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে হবে।