- - -

শেষ হলো অপেক্ষা, ফিরে পেল সন্তানকে এক অসহায় পরিবার

Print News

শেষ হলো অপেক্ষা, ফিরে পেল সন্তানকে এক অসহায় পরিবার

দীর্ঘ ৬ দিনের উৎকণ্ঠা, অশ্রু আর নির্ঘুম রাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে নিখোঁজ হওয়া ৯ বছর বয়সী শিশু দ্বীন ইসলাম। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো)-এর উদ্যোগে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লিডোর সমাজকর্মীরা শিশুটিকে তার জুরাইন কদমতলীর নিজ বাসায় পৌঁছে দেন। পরে কদমতলী থানার ১৩০৬ নম্বর সাধারণ ডায়েরির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সন্তানের মুখ দেখে আবেগে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। আনন্দ আর অশ্রুর মিলনে এক হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সায়েদাবাদ এলাকা থেকে এক অপরিচিত ব্যক্তি দ্বীন ইসলামকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। এরপর আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন, বিভিন্ন এলাকা এবং সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনকি থানায় সাধারণ ডায়েরি করা, বিভিন্ন ব্যক্তির সহযোগিতা চাওয়া এবং নানা উপায়ে অনুসন্ধান চালিয়েও শিশুটির অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে গত ১৪ জুন রাতে কমলাপুর রেলস্টেশনে একা ঘোরাফেরা করতে দেখে রেলওয়ে থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে। নিজের পরিচয় ও ঠিকানা স্পষ্টভাবে বলতে না পারায় ৭৪২ নম্বর জিডির মাধ্যমে তাকে লিডোর ট্রানজিশনাল শেল্টার ‘সেতুবন্ধন’-এ পাঠানো হয়। সেখানে নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে লিডোর সমাজকর্মীরা তার পরিবারের সন্ধানে কাজ শুরু করেন।

টানা ৬ দিনের অনুসন্ধান, তথ্য যাচাই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে অবশেষে শিশুটির পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সব তথ্য নিশ্চিত করে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

লিডোর সমাজকর্মীরা বলেন, “আমরা পথশিশু, হারিয়ে যাওয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের উদ্ধার করে তাদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করি। শিশুদের পরিবারে পুনর্মিলন, শিক্ষা, সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

দ্বীন ইসলামের পরিবারের সদস্যরা বলেন, “আমরা আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। প্রতিদিন শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি যেন আমার ছেলেটা ফিরে আসে। লিডো এবং যারা আমার সন্তানের খোঁজে সাহায্য করেছেন, তাদের প্রতি আমরা আজীবন কৃতজ্ঞ। ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”

এই কয়েকটা দিন আমাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল। সন্তানের জন্য প্রতিটি মুহূর্ত দুশ্চিন্তায় কেটেছে। লিডোর সমাজকর্মীরা যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের কারণে আজ আমাদের পরিবার আবার পূর্ণ হয়েছে।”

উল্লেখ্য, লিডো ২০০০ সাল থেকে পথশিশুদের সুরক্ষা, পুনর্বাসন, শিক্ষা ও অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা শিশুদের উদ্ধার, পরিবারে পুনর্মিলন, পথশালা ও মোবাইল স্কুল পরিচালনা এবং দরিদ্র পরিবারের সহায়তার মাধ্যমে একটি মানবিক সমাজ গঠনে সংস্থাটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa