শিবিরের সঙ্গে ৬০ লাখের চুক্তি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে তুলে নিয়ে ‘ক্রসফায়ার’ বা গুমের আশঙ্কা পরিবারের!
বিস্ফোরক অভিযোগ: শিবিরের সঙ্গে ৬০ লাখ টাকার চুক্তিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আখেরুজ্জামান তাকিমকে থানা থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আখেরুজ্জামান তাকিমকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। তার পরিবার অভিযোগ করেছে, শিবিরের সঙ্গে ৬০ লাখ টাকার এক গোপন চুক্তির অংশ হিসেবে পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে গেছে এবং তাকে ‘ক্রসফায়ার’ অথবা গুম করে ফেলার আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে, তাকিমের গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তার রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, "আখেরুজ্জামান তাকিমকে মিথ্যা মামলায় সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা তাকিমের দ্রুত নিঃশর্ত মুক্তি চাই।"
ভুক্তভোগী তাকিমের পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। গত চার মাস ধরে রাবি শিবিরের এক সাবেক সেক্রেটারিসহ একটি চক্র হাজারীবাগে বাসা ভাড়া নিয়ে ছয়টি ক্যামেরা লাগিয়ে তাকিমকে নজরদারিতে রেখেছিল।
তাকিমের বোন জানান, তার ভাই আজশুক্রবার ঢাকায় এলে তাকে অনুসরণ করা হয়। বিকেলে বাসায় ফেরার পর তিন থানার প্রায় ৪০-৪৫ জন পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। এসময় শিবিরের দুজন সদস্যের উপস্থিতিতে পুলিশ তাকে বাসা থেকে অমানবিক নির্যাতন করে তুলে নিয়ে যায়।
পরিবারের ভাষ্যমতে, ঘটনার পর কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত তাকিমের অবস্থান বা গ্রেফতারের কারণ সম্পর্কে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। পরে হাজারীবাগ থানায় তার অবস্থান জানা গেলেও আইনি কোনো কাগজপত্র দেখানো হয়নি এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যথাযথভাবে দেখা করতেও দেওয়া হয়নি।
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি আসে থানার এক সূত্রের বরাত দিয়ে। পরিবার আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, "শিবিরের সঙ্গে ৬০ লাখ টাকার চুক্তিতে তাকিমকে রাতে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে, নয়তো ক্রসফায়ার কিংবা নির্যাতন করে মেরে ফেলে গুম করা হবে।"
এই পরিস্থিতিতে আখেরুজ্জামান তাকিমের জীবন নিয়ে শঙ্কিত পরিবার ও তার সহকর্মীরা তাকে অবিলম্বে আদালতে তোলার এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।