শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় চাহিদার চেয়ে ওএমএস বরাদ্দ কম আটা কিনতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ভীড়
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পৌরশহরে চাহিদার চেয়ে দুইজন ওএমএস ডিলারে বরাদ্দ কম আটা কিনতে প্রতিদিন নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের লাইনে উপচে পড়া ভীড় হচ্ছে । জানা যায় , সরকারি বন্ধ দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে ওএমএস ডিলাররা আটা বিক্রি করছেন। এক পর্যায়ে দুপুর গড়ানো আগেই প্রতি এএমএস ডিলারের ৫ শ কেজি আটা শেষ হয়ে যায় । পৌর শহরে দুইজন ওএমএস ডিলার আটা বিক্রয় কেন্দ্রে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় , দাউদ নগর বাজার হবিগঞ্জ রোড নূর গার্ড বাসার সামনে এবং হাসপাতাল রোড জহুর আলী মার্কেট বিক্রয় কেন্দ্রে ৫ শতাধিক করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের নারী- পুরুষরা আক্ষেপ করে বলেন , সরকারি বরাদ্দ কম তাই ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্রের ডিলারের আটা শেষ হয়ে যায় । অপরদিকে পৌর এলাকার দাউদ নগর বাজারের ওএমএস ডিলার সাবেক পৌর কাউন্সিলর মোঃ মাসুক মিয়া জানান , হবিগঞ্জ জেলার মধ্যে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পৌরশহরে প্রায় ২০ হাজার ভোটারের মধ্যে তার অর্ধেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত লোক রয়েছে এবং ভাসমান লোক সংখ্যা খুব বেশি হওয়ায় চাহিদা মতো আটা পোষানো যাচ্ছে না । তবে পৌর শহরে সুদিয়াখলা , চরনুর আহম্মদ , লেঞ্জাপাড়া , নিজগাঁও , বড়চর, তালুহড়াই , বিরামচর , কুটিরগাঁও , উবাহাটা বেশিরভাগ দিন মজুরি , শ্রমিক রয়েছে । সকালে নিম্ন ও মধ্য বিত্ত নারী-পুরুষরা আটা কিনতে এসে লাইনে দাড়িয়ে থাকে ৫ -৭ জন । এর মধ্যে ১শ জনকে লাইনে থাকা সিরিয়াল মতে নারী- পুরুষকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসে লোকজনকে দিয়ে উপ টুকুন দিলে আটা ক্রয় করে নেয়। এর মধ্যে ৪ শতাধিক লোক উপ টুকুন না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা যায় । অথচ পৌর সভায় ৯টি ওয়ার্ডে ৬ জন ওএমএস ডিলার নিয়োগ করা হয় । শুধু ২ জন ওএমএস ডিলার মাধ্যমে আটা বিক্রি করা হয় । প্রতিদিন ওএমএস ডিলার সরকারি বরাদ্দ ৫ শ কেজি আটা । যা জন প্রতি ৫ কেজি করে দিলে মোট ১শ জনকে আটা দেওয়া হয় । এ কারণে চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ কম হওয়ায় দুই বিক্রয় কেন্দ্রে হাজারো উর্ধে নিম্ন ও মধ্য বিত্ত আটা না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যায় । শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে , ১ সেপ্টেম্বর থেকে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর শহরে দুই জন ওএমএস ডিলার দিয়ে প্রত্যেক মহল্লার নারী- পুরুষ আটা বিক্রি করছে । আবার কেউ বিক্রয় কেন্দ্র দূর হওয়ায় আসতে পারছে না । সে মোতাবেক রেশনিং পদ্ধতিতে প্রতি একজন ডিলার এক দিনের জন্য ৫শ কেজি সরকারি বরাদ্দের আটা বিক্রি করতে পারেন । অর্থাৎ ওএমএস ডিলার বরাদ্দকৃত আটা ২৪ টাকা কেজি দরে ১শ জনকে দিতে পারে । খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , বাজারে খোলা আটা বর্তমান আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ - ৪৮ টাকা ও প্যাকেট জাত আটা ৫২ - ৫৫ টাকা কেজি । সেখানে ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্রের প্রতি কেজি ২৪ টাকা বিক্রি হয়। যে কারণে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পৌর এলাকায় যে ২ টি ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্রে আটা বিক্রি হচ্ছে , তার সব গুলোতে আটা ক্রেতা নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা প্রচুর ভীড় ও পুরুষের চেয়ে নারী লাইন বেশি লক্ষ্য করা গেছে । এদিকে দাউদনগর বাজার ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্রে এসে দাউদ নগর মহল্লার ফল ব্যবসায়ী ছায়েদ আলী জানান , বাজারের চেয়ে কম দামে আটা এখানে পাওয়ায় প্রতিটি মহল্লার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের আটা কিনতে আসে । এ কারণে দুটি বিক্রয় কেন্দ্র উপচে পড়া ভীড় । রেলওয়ে দিঘির পার বস্তির আরেক আটা ক্রেতা বৃদ্ধ নারী কুটুনী বেগম বলেন , প্রতিটি মহল্লার অসুস্থ রোগী ও ছেলে - মেয়েরা ভাতের পাশাপাশি রুটি খেতে পছন্দ করে । আবার ওএমএস আটা দাম ও কম। তাই আটা কিনতে এসেছি দাউদনগর বাজার হবিগঞ্জ রোডে বিক্রয় কেন্দ্রে । অবশ্য আমি ৫ কেজি আটা ১২০ টাকায় নিতে পারলে ও দুপুরের পর পরই বিক্রয় কেন্দ্রে আটা ফুরিয়ে যাওয়ায় আমার সাথে আসা ২০- ২৫ জন নারী আটা নিতে পারেনি । অবশ্য , বাগুনীপাড়া আশ্রয়ন প্রকল্পের হতদরিদ্র মোহাম্মদ আলী ও আবু রবি দাস সহ প্রতিটি বিক্রয় কেন্দ্রে অত্যেন্ত দুই জন ওএমএস ডিলারকে প্রতিদিন সরকারি আটা বরাদ্দ আরো ২ হাজার কেজি বাড়ানো জন্য দাবি জানান । এ প্রসঙ্গে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল ইসলাম বলেন , প্রতিদিন দুই জন ওএমএস ডিলারকে ১ হাজার কেজি সরকারি আটা বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছি এবং ২ শ জন মধ্যে বিক্রি করবে । তিনি আরো বলেন , আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আটা বরাদ্দ ৫ শ কেজি স্থলে প্রতি ডিলারকে ৩ শ কেজি আটা বরাদ্দ দেয়া হবে । এদিকে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) পল্লব হোম দাস জানান , ওএমএস আটা দাম ও কম হওয়ায় আটা চাহিদা খুব বেশি । আমি শুনেছি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত লোকজনের সংখ্যা খুব বেশি । পাশাপাশি চাহিদার প্রেক্ষিতে ওএমএস ডিলারে মাধ্যমে সরকারি আটা বরাদ্দ বাড়ানো যায় কিনা তা উর্ধতন এর কাছে জানানো হয়েছে ।