
মধুর এক যুগ নৃত্য দিবস পালিত
যেকোনো দেশের মানুষের এগিয়ে যাওয়ার পেছনে
প্রেরণা হয়ে কাজ করে সে দেশের সংস্কৃতিচর্চা
– মধু চৌধুরী
নৃত্য মানুষের সম্মিলন ঘটায় তার পরিচিত ভাষা দিয়ে। নৃত্যের আনন্দ বিনিময় ঘটে দর্শকের মধ্যে, তার বোধ-উপলব্ধিকে সচেতন করার জন্য। মধুর এক যুগ নৃত্য দিবসে আজকের এই দিনে যারা নৃত্যের সৌন্দর্য ও এর অন্তর্নিহিত শক্তিকে বুঝতে পেরেছেন, ভালোবেসেছেন, তাদের সবার জন্য মধুর এক যুগ নৃত্য দিবসের শুভেচ্ছা রইল। যেকোনো দেশের মানুষের এগিয়ে যাওয়ার পেছনে প্রেরণা হয়ে কাজ করে সে দেশের সংস্কৃতিচর্চা। সংস্কৃতির অন্যতম নৃত্য চর্চার মাধ্যমেই মানুষ বৃহৎ পরিসরে নিজেকে মেলে ধরতে পারে। সংস্কৃতি নৃত্যচর্চার মধ্য দিয়েই একজন মানুষের যেমন, তেমনি একটি জাতির রুচিবোধেরও পরিচয় মেলে। সংস্কৃতি নৃত্যচর্চার মধ্য দিয়েই সংহতি, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহযোগিতার বন্ধন তৈরি হয়। সব নৃত্যচর্চা সংস্কৃতির আদি জননী হচ্ছে নাচ বা নৃত্য। নাচ সাংস্কৃতিক শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম। ফলে গবেষণা ও শিক্ষার উপাদান হিসেবে সারা বিশ্বেই নাচের জনপ্রিয়তা রয়েছে। নাচ মানুষের মেধা ও মননকে বিকশিত করে। নাচে দেহভঙ্গিমার মাধ্যমে শৈল্পিকভাবে পার্থিব ও অপার্থিব সব ভাবকে মানুষ প্রকাশের সুযোগ পায়। এ প্রকাশভঙ্গিতে থাকে গতি ও ছন্দ। সেই গতি ও ছন্দের তালে তালে ফুটে ওঠে প্রেম, ভালোবাসা, রাগ, অনুরাগ, প্রতিবাদ। সমাজ কিংবা গল্প-ইতিহাসের কথাও নাচের মাধ্যমে উঠে আসে। নাচের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা যায় জীবনের কথা, চাওয়া-পাওয়া বা না-পাওয়ার কথা। সব মিলিয়ে নাচ শুধু বিনোদনমাত্র নয়, নাচ জীবনের প্রতিবিম্বও। অনেকেই ভাবতেন নৃত্য অত্যন্ত জটিল একটি ব্যাপার। ছবি ও রঙের মতো। চিত্রকর্মের বিচিত্র রূপের সঙ্গে নৃত্যের বিন্যাস ঘটে। পরে এর প্রকাশভঙ্গি আলোর সমকক্ষ চিন্তা করা যেতে পারে। সংগীত ব্যতীত নৃত্য বোধগম্য নয়। সৃজনশীল উপায়ে সব দেহটাকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং দেহের ছন্দকে মানুষের কাছে তুলে ধরা। এ ক্ষেত্রে আত্মার গতিশীল আলোড়ন ফুটে ওঠে মুখমণ্ডলের মাধ্যমে। অব্যশ্যই একজন নৃত্যশিল্পীকে অন্য দশজন মানুষ অপেক্ষা পৃথক হতে হবে। তাহলেই একজন শিল্পীর রুচি অন্যদের আকর্ষণ করবে। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক চর্চা শিশু-কিশোর প্রশিক্ষণ একাডেমী’র উদ্যোগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ বিকাল ৫ টায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা পূর্বসুয়াবিল নবরত্ন সমিতি সাংস্কৃতিক একাডেমি হলস্থ নৃত্যশিল্পী মধুর এক যুগ নৃত্য দিবস উপলক্ষে নৃত্য উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক চর্চা শিশু-কিশোর চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বাংলাদেশ বুলবুল একাডেমী চট্টগ্রাম জেলার নৃত্য প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন শিল্পী, মধু চৌধুরী উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
ফটিকছড়ি উপজেলার বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পীদের সমন্বয়ে নৃত্য উৎসবে অংশগ্রহণ করেন আগ্রিকা চক্রবর্তী, সৃষ্টি চক্রবর্তী, ঈশিতা চক্রবর্তী, রিংকি চক্রবর্তী, মুমু চক্রবর্তী, অনন্যা দাশ, অন্বেষা দেবী, অনুস্কা দেবী, প্রনমী দেবী, সৃজা চক্রবর্তী প্রমূখ।
একাডেমীর উপদেষ্টা লাবনী চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সুমন ধর’র সঞ্চালনায় এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক নিহার ভট্টাচার্যের সার্বিক নির্দেশনায় উপরোক্ত নৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।
সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন অনুষ্ঠান উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম দাশ গুপ্ত, অর্থ সম্পাদক কেশব বণিক, সাংগঠনিক সম্পাদক নুকুল চক্রবর্তী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কোষাধ্যক্ষ বিভাশ ধর।
![]()









