বিয়ের প্রতিশ্রুতি, প্রতারণা ও ধর্ষণের ভয়াবহ ফাঁদে এক নারী: মোহাম্মদপুরে হোটেল মালিক আক্তারের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক এক প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ‘ভাই ভাই হোটেল’-এর মালিক মোঃ আক্তারের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী এক নারীর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, আক্তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে একটি ভয়ংকর ফাঁদে ফেলে ধর্ষণসহ নানা ধরনের নির্যাতন করেন।
ভুক্তভোগী শেফালী (৩৫), রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং বর্তমানে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় বসবাসরত, গত ১৯ জুন মোহাম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, প্রায় তিন মাস আগে এক বান্ধবীর মাধ্যমে আক্তারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর মোবাইলে নিয়মিত যোগাযোগ থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আক্তার তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঢাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। শেফালী তার প্রতি আস্থা রেখে নিজের সঞ্চিত ৭০,০০০ টাকা এবং এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার আক্তারকে দেন, যা সে আত্মসাৎ করে বলে অভিযোগ।
পরবর্তীতে বিয়ের প্রসঙ্গ তুললে আক্তার আচরণ পাল্টে ফেলে এবং তাকে হুমকি দিয়ে বলে, “আমাকে কেউ কিছু করতে পারবে না।” এরপর এক অচেনা নারীকে ‘বোন’ পরিচয়ে ব্যবহার করে শেফালীকে একটি অজানা বাসায় ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে শেফালী দেখেন, এক অচেনা পুরুষ আগে থেকেই প্রস্তুত অবস্থায় অপেক্ষা করছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই নারী সেখান থেকে চলে যায়। অভিযোগ অনুসারে, এরপর সেই পুরুষ তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতন করে — এবং তা একাধিকবার ঘটে।
শেফালী জানান, এই ঘটনার পর তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েন। মামলা দায়েরের উদ্যোগ নিলে আক্তারের ভাই নুরু, ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি জসিম এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাকে ভয়ভীতি দেখায়। তারা হুমকি দিয়ে বলেন, “আক্তারকে ভুলে যাও, নইলে খারাপ পরিণতি হবে।”
বর্তমানে শেফালী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কিত বলে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করা হলে কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এবং স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা।