ফেঞ্চুগঞ্জে ইসলাম প্রতিষ্ঠার মহাবীর পুরুষ হযরত শাহ মালুম (রহ:) "জুনায়েদ গুজরাতি
লেখক: মো. শহিদুল ইসলাম
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন।
গ্রাফিক্স ডিজাইনার ও সিনিয়র প্রেস প্রিন্টিং কারিগর।
১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে (৭০৩ হিজরি) সিলেট বিজয় আন্দোলনে ফেঞ্চুগঞ্জ ইসলাম প্রতিষ্ঠার মহাবীর পুরুষ ছিলেন হযরত শাহ মালুম (রহ:) আসল নাম "জুনায়েদ গুজরাতি" হযরত শাহ মালুম (রহ:) ছিলেন একজন মহাবীর পুরুষ এবং আধ্যাত্মিক সাধক, যিনি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকায় ইসলাম প্রচার ও প্রসারে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। তিনি "জুনায়েদ গুজরাতি" নামেও পরিচিত ছিলেন। তার সিলেটে আগমন এবং ফেঞ্চুগঞ্জের পবিত্র মাটিতে পদার্পণ অত্র অঞ্চলে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সমাজ সংস্কার ও ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছেন।
সিলেট অঞ্চলের চতুর্দশ শতাব্দীর মুসলিম সুফি সাধক। হযরত শাহ জালাল (রহ:) সিলেট বিজয় আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পর সফর সঙ্গীদের দায়িত্ব বন্টন করেন। হযরত শাহ মালুম (রহ:) দায়িত্বপান ফেঞ্চুগঞ্জে ইসলাম প্রচার ও ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করার পরবর্তীতে তিনি বুদ্ধি, জ্ঞান এবং নেতৃত্বের মাধ্যেমে বিজয় অর্জন করেন।
উপস্থিত বুদ্ধি, জ্ঞান, নেতৃত্ব এবং বীরত্বে ১৩০৩ সালে সিলেট বিজয়ের আগে তিনি হযরত শাহ জালাল (রহ:) এর কাছ থেকে শাহ মালুম খেতাবে ভূষিত হন।
জুনায়েদ গুজরাতি ১৩ শতাব্দীতে ভারতের গুজরাতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৩০৩ সালে তিনি হযরত শাহ জালাল (রহ:) নেতৃত্বে সিলেট বিজয় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। বিজয়ের পরে তিনি মহুরাপুর পরগনায় (বর্তমানে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার রাজনপুর) খানকাহ প্রতিষ্ঠা করেন। রাজনপুর ফেঞ্চুগঞ্জ রেল লাইনের বিপরীতে তাঁর খানকাহের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।
উল্লেখ্য, ফেঞ্চু শাহের নাম অনুসারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার নাম রাখা হয়েছে। ফেঞ্চু শাহ ছিলেন শাহ মালুম এর মাজারের একজন খাদেম। তিনি প্রতিদিনি বিকাল বেলা কুশিয়ারা নদীর ঘাটে এসে বসতেন। পরে এখানে দোকানপাট গড়ে উঠলে এর নাম ফেঞ্চুগঞ্জ রাখা হয়।