পানি কমলেও কমছে না কৃষকের চোখের জল; লাখাইয়ে পচা ফসলে স্বপ্নভঙ্গ
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় হাওরের পানি কমতে শুরু করেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া শত শত হেক্টর ফসলি জমি গত কয়েকদিন ধরে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। তবে পানি কমলেও কৃষকের মুখে হাসির বদলে দেখা দিয়েছে বিষাদের ছায়া। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় ভেসে ওঠা সোনালি ফসলে পচন ধরেছে, যা দেখে কৃষকের ‘কলিজায় কষ্টের দাগ’ লেগেছে।
১২ মে (মঙ্গলবার) উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, হাওরের পানি ধীরগতিতে নামতে শুরু করেছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে থৈ থৈ পানি ছিল, সেখানে এখন পচে যাওয়া ধানের শীষ উঁকি দিচ্ছে। বাতাসে ভেসে আসছে পচা ধানের উৎকট গন্ধ। যে ধান ঘরে তুলে নিশ্চিন্তে বছর পার করার কথা ছিল, সেই ধান এখন মাঠেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগাম বন্যায় যখন জমি তলিয়ে যায়, তখনো তারা আশা করেছিলেন পানি দ্রুত নেমে গেলে হয়তো কিছু ধান রক্ষা করা যাবে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় ধানের ছড়াগুলোতে পচন ধরে কালো হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় ধানের ভেতর চালের বদলে কেবল তুষ বা পচা কাদা অবশিষ্ট রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, "পানির নিচে যখন ধান আছিল, তখন তাও একটা আশা আছিল। অহন পানি কমছে কিন্তু সব ধান তো পইচ্যা গেছে। এই দৃশ্য সহ্য করার মতো না। আমাগো সারা বছরের স্বপ্ন এই পানির লগে পইচ্যা শেষ হইয়া গেল।
উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকার বোরো ফসল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তলিয়ে যাওয়া কয়েকশ হেক্টর জমির ধান এখন গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহারেরও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। হাড়ভাঙা খাটুনি আর ঋণের টাকায় ফলানো এই ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় শত শত কৃষক পরিবার।
স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত সরকারি সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা না হলে আগামী দিনগুলোতে তাদের চরম খাদ্য ও অর্থ সংকটে পড়তে হবে।