দেশটা হ্যাপী, আতা ও অভিনাসের
মানুষের জন্য এসেছে ধর্ম, ধর্মের জন্য মানুষ নয়।
কিন্তু দেশের ক্ষেত্রে হিসাবটা উল্টো। দেশটাকে অর্জন করে নিতে হয়, শত্রুকে বর্জন করতে হয় বুকের তাজা রক্ত ঢেলে। রক্তের কোন ধর্ম নেই, অবিরল বয়ে চলাই তার কর্ম। রক্তে রক্তে মিশে গিয়ে গেয়ে উঠে মানুষের জয়গান। তাই শহীদের কোন ধর্ম নেই, নেই কোন আলাদা পরিচয়বাহী বিশেষণ। উনারা কেবলই শহীদ। দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করার চেয়ে মহত্তম কোন মৃত্যু নেই। দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য জীবন দানই সর্বোত্তম ইবাদত।
নাটোরের মল্লিকহাটি মহল্লার টগবগে তিন যুবক। ধর্মে আলাদা, কিন্তু শপথে এক। উৎসর্গী হলেন স্বদেশ ও স্বজাতির নিজস্ব সার্বভৌম রাষ্ট্র বিনির্মানে। একাত্তরের পরমবীর তিন শহীদ হ্যাপী, আতা এবং অভিনাশ — চুপচাপ শয্যা পাতলেন একই মাটির বিছানায় পাতা শুনশান কবরে।
একাত্তরের কোন এক আগুনমুখো দিনে পাকবাহিনী তাঁদের হত্যা করে নারদ নদের পাশে ফেলে রেখেছিলো শেয়াল-কুকুর-শকুনের খাদ্য হিসাবে। কিছু মানুষ জীবনের কিছুটা ঝুঁকি নিয়েই হয়তো কোনোরকমে নারদের পাড়েই কবরস্থ করেছিল লাশ তিনটি। এঁদের মধ্যে আতা ছিলেন তরুণ নাট্যকর্মী। অন্য দুইজন ফুটবল খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠক।
দুই ধর্মের তিন যুবক চিরঘুমে ঘুমাচ্ছেন একই মাটির দেয়ালঘেরা নরোম বিছানায়। দেশটা এই হ্যাপি, আতা ও অবিনাশের।