
দিনাজপুর বীরগঞ্জে তান্ত্রিক কবিরাজ কে মারপিট এবং প্রস্রাব খাওয়ানোর ঘটনায় থানায় মামলা
বৃদ্ধ তান্ত্রিক কবিরাজ নেন্দ (৭০) কে মারপিট ও জোর পুর্বক প্রস্রাব খাওয়ানোর ঘটনায় আনোয়ার মেম্বার কে গ্রেফতারের গনদাবী।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা শতগ্রাম ইউনিয়নের অর্জুনাহার কচুয়াবাড়ি শ্মশ্বানে ১৯ অক্টোবর সোমবার দিবাগত রাতে বহুল পরিচিত গ্রাম্য কবিরাজ মোকছেদ আলী ওরফে নেন্দু রাত অনুমান সাড়ে ১০ টা থেকে ১১ টার সময় বজির কে সাথে নিয়ে ঝারফুক তান্ত্রিক কাজে মংগুলু মোহাম্মদের ভ্যানে সেখানে যান।
তারা শ্মশ্বানের কালি মন্দিরের সামনে শাস্ত্র অনুযায়ী মোমবাতী জ্বালিয়ে তাদের কাজ শুরু করেন।
শ্মশ্বান ও কালি মন্দির অর্জুনাহার টু ঝাড়বাড়ি গামী রাস্তার সংলগ্ন হওয়ায় দৃশ্যটি ঐ পথে গমনকারী মৃত নবাব আলী ওরফে নবাইয়ের ছেলে আনোয়ার মেম্বার এবং মৃত সাবদারুলের ছেলে বদিউল আলম বুলেট দেখে ফেলে তাদেরকে আটক করে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারপিট শুরু করে।
পথচারী দুইজনেই আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে শতগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বলে জানা গেছে।
আটক বৃদ্ধ তান্ত্রিক কবিরাজ নেন্দুসহ অন্যদের কে মারপিটের ঘটনা জানাজানি হলে নিমিষে সেখানে শত শত উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
জনগনের উপস্থিতিতে আনোয়ার মেম্বার ও বুলেট মারতে মারতে পিতৃতুল্য বৃদ্ধ নেন্দু ও বজির কে রক্তাক্ত জখম করে মাটিতে ফেলে দেয়, নেন্দুকে বদনায় তার প্রশাব ভরিয়ে সেই প্রশাব জোর পুর্বক মুখে ঢেলে দিয়ে খাওয়ায় এবং সেই দৃশ্য ভিডিও ধারন করে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হয়।
গুরুতর আহত নেন্দূ ও বজির বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নেন্দু অজ্ঞান হয় বলে তার পূত্র থানায় লিখিত অভিযোগকারী আব্দুল বাছেত জানান।
তান্ত্রিক কবিরাজ নেন্দু, বজির ও মংগলু অর্জুনাহার নালপাড়ার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার সরজমিনে গিয়ে জানা যায় আনোয়ার হোসেন মেম্বার পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের সদস্য, তিনি তাদের মেম্বারও নন অথচ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কেন এমন জঘন্য বর্বর মানবতা বিরোধী কান্ড ঘটালেন!
সবার মুখে একই কথা আনোয়ার মেম্বার
ও বুলেটের এই বর্বরতার বিচার চায়, এটি এখন ঐ এলাকার মানুষের গনদাবীতে পরিনত হয়েছে।
যে কোন মুহুর্তে উদ্ভুত ঘটনায় বড় রকমের সংঘাত হতে পারে। অর্জুনাহার বাজার উত্তাল এবং চরম উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে।
প্রতিশোধের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে ঐ এলাকার বিক্ষুব্ধ অসংখ্য মানুষ।
মারধোর ও প্রশাব খাওয়ানোর পর গভীর রাতে আহতদের কে স্থানীয় বিএনপি নেতা এবং অপর ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হবিবর রহমানের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে মর্মে তিনিসহ অসংখ্য সাক্ষ্য প্রমান পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত আনোয়ার মেম্বার এবং বুলেটের সাথে কথা হলে তারা মারধর এবং মূত্র পান তথা প্রশ্রাব খাওয়ানোর কথা স্বীকার করে বলেন জনগনের চাপের মুখে মারপিট ও প্রশাব খাওয়ানো হয়েছে।
ন্যায় বিচারের আশায় ভিকটিমের ছেলে আব্দুল বাসেত বাদী হয়ে বীরগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছে।
শতগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান মতির সাথে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, একজন সচেতন ব্যক্তি এবং অন্যজন মেম্বারের পক্ষে আইন হাতে তুলে নিয়ে এমন অশোভনীয়, বেআইনি কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাই, আইন সবার উর্ধে, অপরাধীদের কে আইনের আওতায় এনে ন্যায় বিচার করা হোক।
ঘটনা সত্য হলে আনোয়ারের মেম্বারশিপ বাতীল/বরখাস্ত হতে পারে।
অভিযোগের প্রাপ্তি স্বীকার করে অফিসার ইনচার্জ বীরগঞ্জ থানা সাইফুল ইসলাম বলেন, তদন্ত চলছে অপরাধী যত বড়ই হোক না কেন কোন ছাড় দেওয়া হবে না।
![]()









