তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ অভিযান, নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান
ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোতে মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, “তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন।” বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
রোববার (১১ অক্টোবর) নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডে চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভা নিধন, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি রোধে সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ডেঙ্গু সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য নগরবাসীর সচেতনতা, সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এবং জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করলে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।
এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে গুরুত্বারোপ করে মেয়র বলেন, বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির পানির ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব পরিত্যক্ত সামগ্রীতে বৃষ্টির পানি জমতে পারে, সেগুলো অপসারণ করতে হবে। সামান্য অসচেতনতার কারণেও এসব স্থানে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন’—এই স্লোগানকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। প্রতি তিন দিন পরপর বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমার স্থান পরীক্ষা করে তা পরিষ্কার করতে হবে। শুধু নিজের আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখলেই হবে না, প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষকেও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।
ডেঙ্গু নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সঠিক তথ্য জানা এবং তা অনুসরণ করা জরুরি। কোনো তথ্য যাচাই না করে প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। গুজব ও বিভ্রান্তির পরিবর্তে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে হবে। সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
মেয়র আরও বলেন, এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে হবে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহার করতে হবে এবং জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
তিনি জানান, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। নগরবাসী নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ছবির ক্যাপশন: চট্টগ্রাম নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডে চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শন করে কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।