তাসাওউফ, মানবসেবা ও বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ( ক.)’এর জীবনাদর্শ
এম. এ. মুরাদ
ইসলামের আধ্যাত্মিক ও নিগূঢ় চর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাসাওউফ। নবী করিম হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শই সুফি দর্শনের মূল উৎস ও ভিত্তি। সুফিগণ মনে করেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা.)-এর বাহ্যিক জীবনের পাশাপাশি তাঁর একটি গভীর আধ্যাত্মিক বা অভ্যন্তরীণ জীবন ছিল, যা তাসাওউফের মূল প্রেরণা। সুফি জগতের ইমাম ও সাধকগণ তাঁদের ঐকান্তিক প্রেম, মানবতা, নৈতিক চরিত্র এবং অনুপম মানবসেবার মাধ্যমে সারা বিশ্বে ইসলামের বাণী প্রচার ও প্রসার করেছেন। সুফি সাধকদের আধ্যাত্মিক সাধনা ও চরিত্রমাধুর্যই ছিল ধর্মপ্রচারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। তাঁদের মূল বাণীতে রয়েছে মহান আল্লাহ্র প্রতি নিঃশর্ত প্রেম ও ভালোবাসা এবং সৃষ্টির সঙ্গে স্রষ্টার মেলবন্ধন প্রতিষ্ঠার শিক্ষা। আল্লাহ্র ইবাদত এবং মানবসেবাই সুফিতত্ত্বের মূল কথা।
ইমাম জালালউদ্দিন সুয়ূতী (রহ.)-এর মতে, মানবসেবা ও সৃষ্টির কল্যাণ সাধন ইবাদতের অন্যতম অংশ। তিনি বিশ্বাস করতেন, সুফি ও অলি-আউলিয়াদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও মানবপ্রেম মানবতার ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সুফি ও অলি-আউলিয়াদের মানবসেবার মূল দর্শনই হলো ইবাদতের পূর্ণতা। তাঁর মতে, শুধু নামাজ-রোজার মধ্যেই ইবাদত সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের দুঃখ-দুর্দশা মোচন, অভাবগ্রস্তকে সাহায্য করা এবং দুস্থ মানবতার সেবা করার মাধ্যমেও মহান আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ করা যায়।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ্ তায়ালা বলেছেন- “তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত কর এবং তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করো না। পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সঙ্গী, মুসাফির এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার কর” -(সূরা আন-নিসা, ৪:৩৬)। হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালী (রহ.)-এর মতে, মানবপ্রেম ও সাম্য সুফি দর্শনের অন্যতম মূল কথা। সুফি দর্শনের মূল শিক্ষা হলো- স্রষ্টার সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা। সুফিগণ জাগতিক লোভ-লালসা ত্যাগ করে কঠোর সাধনা, জিকির (আল্লাহ্র স্মরণ) এবং নৈতিক উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধির কথা বলেছেন। পৃথিবীতে ইসলাম প্রচারে সুফিদের অবদান অবিস্মরণীয়। সুফিরা বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেছেন এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মিশে গিয়ে একটি সুদৃঢ় সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সম্পৃক্ততার মেলবন্ধন তৈরি করেছেন। সুফিদের প্রতিষ্ঠিত খানকাহ্ (আধ্যাত্মিক শিক্ষাকেন্দ্র) ও দরগাহগুলো ছিল দুস্থ-দরিদ্র মানুষের অন্নসংস্থানের স্থান এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির মিলনকেন্দ্র, যা আবহমানকাল থেকে আজও প্রচলিত রয়েছে।
ইসলামের ইতিহাসের গবেষক ও পণ্ডিতগণ সুফিদের প্রচারপদ্ধতি সম্পর্কে অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, সুফিরা তাঁদের আধ্যাত্মিক ও মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলেন। পৃথিবীতে মানুষকে স্রষ্টার প্রতিনিধি বা খলিফা হিসেবে পাঠানো হয়েছে। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং শান্তি বজায় রাখা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ্ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন- “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন” -(সূরা আন-নাহল, ১৬:৯০)।
কোনো বিবাদ দেখা দিলে কোরআন তা মীমাংসা করে শান্তি প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছে। সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও এতিমদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়াই প্রকৃত মানবিকতার পরিচয়। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ও ইমাম মালেক (রহ.)-এর মতানুযায়ী, হাদিস ও সুন্নাহর অনুসরণে মানবসেবা ইবাদতেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের দৃষ্টিতে সমাজের দুর্বল, অসুস্থ ও অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেক মুসলিমের নৈতিক দায়িত্ব।
বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ্ দায়িত্বশীলরা যখন রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যেতে বসেছিল, এমতাবস্থায় বাংলার জমিনে মহান আল্লাহ্র প্রতিনিধি হিসেবে আবির্ভূত হন মানবতার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, ইমামুল আউলিয়া, হুজুর গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)। তাঁর পবিত্র রক্তের উত্তরাধিকারী, দৌহিত্র, খাদেমুল ফোক্বারা অছি-এ-গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর সুযোগ্য বড় সন্তান মারজাল বাহরাইন, মাজমাউল বাহরাইন, বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত মাওলানা সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) (১৯২৮-১৯৮৮) মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেন। তিনি মাদারজাত অলি হওয়া সত্ত্বেও বাল্যকাল থেকেই কঠিন রিয়াজত ও সাধনার মাধ্যমে নিজেকে এক সুউচ্চ মর্যাদাপূর্ণ স্থানে অধিষ্ঠিত করেন। মানবসেবায় বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর নাম এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় অধ্যায়। সুফি দর্শনের পাশাপাশি তাঁর সমগ্র জীবন আর্তমানবতা, সামাজিক উন্নয়ন এবং নিঃস্ব মানুষের কল্যাণে উৎসর্গীকৃত ছিল। দুনিয়ার মোহে মত্ত না হয়ে আল্লাহ্র প্রতি নিজেকে উৎসর্গ করাই তাসাওউফের জুহদ বা ত্যাগের শিক্ষা। সুফি দর্শনে চরম বিনয় এবং আমিত্ব বিসর্জন দেওয়াকে ফানা বা ফাকর-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়। ইসলামে কেবল বাহ্যিক আমল নয়, অন্তরের নিয়ত ও পবিত্রতাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আত্মিক পরিশুদ্ধি ব্যতীত প্রকৃত পরিশুদ্ধি ঘটেনা- এটাই তাসাওউফের শিক্ষা।
বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) বলতেন, “হালাল খাও, নামাজ পড়, আল্লাহ্্ আল্লাহ্্ জিকির করÑ সব সমস্যা মিটে যাবে।” তিনি মানবজাতিকে জাগতিক লোভ-লালসা থেকে পরিশুদ্ধ করে খোদামুখী করার শিক্ষা দিয়েছেন। মূলত বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর জীবনাদর্শ থেকে আমরা এই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি যে, স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি তাঁর সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা ও সদয় আচরণই একজন মানুষের প্রকৃত মহত্ত্বের পরিচয়।
সৃষ্টির প্রতি তাঁর ছিল অগাধ ভালোবাসা। তাঁর সান্নিধ্য যারা লাভ করেছেন, তাঁরা আজও তাঁকে ভুলতে পারেন না। তাঁরই আদর্শ ও দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এসজেডএইচএম ট্রাস্ট (SZHM Trust) এবং মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ আজ দেশব্যাপি মানবকল্যাণের এক মূর্ত প্রতীক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
এসজেডএইচএম ট্রাস্টের মাধ্যমে সারা বছর অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদান এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে নিতে নিয়মিতভাবে শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য দাতব্য চিকিৎসালয় পরিচালনা করে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে প্রতিবছর বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তাই যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে খাদ্য, বস্ত্র ও পুনর্বাসন সহায়তা প্রদানও নিয়মিতভাবে অব্যাহত রয়েছে। পিতা-মাতা ও পরিবারহীন এতিমদের লালন-পালন এবং কন্যাদায়গ্রস্ত দরিদ্র পিতার কন্যাদের বিবাহে আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠান সমাজে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় কয়েক কোটি টাকা মানবসেবায় ব্যয় করা হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
মূলত বিশ্বঅলির দর্শন হচ্ছে পবিত্র কোরআনের আলোকে সুফি ও মানবতাবাদী দর্শনের সমন্বিত রূপ। তাঁর জীবনাদর্শের মূল শিক্ষা ছিল- স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসা এবং মানবতার প্রতি সদয় হওয়া। তাঁর অসংখ্য মূল্যবান কালামের মধ্যে একটি প্রসিদ্ধ কালাম হলো- ‘হজের টাকায় দুস্থ মানুষের সেবাই হজে আকবর।’ এই পবিত্র কালামের তাৎপর্য বর্তমান বিত্তশালী সমাজের অনেকের কাছে সহজে বোধগম্য নাও হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন- একজন সামর্থ্যবান মুসলমানের জীবনে একবার হজ ফরজ। অতএব, ফরজ হজ আদায়ের পর বারবার নফল হজে অর্থ ব্যয় না করে যদি কোনো ব্যক্তি তার অভাবী প্রতিবেশীর আহারের ব্যবস্থা করেন, যার থাকার বাসস্থান নেই তাকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেন, অথবা যার পরনের কাপড় নেই তাকে কাপড় দেন- তাহলে সৃষ্টির প্রতি এই দয়া, ভালোবাসা ও নিঃস্বার্থ সহযোগিতার মাধ্যমে মহান আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব।
তাঁর জীবনাদর্শ ও চিন্তাধারা টিকিয়ে রাখতে এবং মানবসেবা অব্যাহত রাখতে তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি, আওলাদে রাসুল (দ.) রাহবারে আলম হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.) প্রকাশ মওলা হুজুর -এর তত্ত্বাবধানে গঠিত শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, গবেষণা, নারী দক্ষতা উন্নয়ন-সহ বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী আধ্যাত্মিক বুজুর্গ ব্যক্তিত্ব আমাদের শ্রদ্ধেয় মওলা হুজুর (ম.জি.আ.)। তিনি মহান পিতার প্রদর্শিত পথে প্রতিষ্ঠিত থেকে দ্বীন প্রচারে ও মানবসেবায় নানাভাবে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত মাওলানা সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর পবিত্র রওজা শরীফে আশেক-ভক্তগণ যে হাদিয়া (নিঃশর্ত উপহার) দেয়, তা মানবতার খেদমতে ব্যয় করা হয়। সুফি সাধকগণ মূলত তাঁদের হায়াতে জীবন মানবতার কল্যাণেই অতিবাহিত করে গেছেন। তাঁরা সব সময় সৃষ্টির কল্যাণ কামনা করেছেন এবং মানবতার সেবাকে তাঁদের আধ্যাত্মিক সাধনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
আউলিয়া কেরামগণের খানকা, দরবার এবং মাজার হলো স্প্রিচুয়াল (আধ্যাত্মিক) এবং ফিলোসোপিকাল সেন্টার। যেখান মানুষ আল্লাহ্র সান্নিধ্য লাভ এবং পরিশুদ্ধির পথ খুঁজে পায়। কিন্তু বর্তমান সমাজে কিছু দুষ্কৃতকারী মানুষের মধ্যে বিভেদ ও উন্মাদনা সৃষ্টি করে অলি-আউলিয়াদের মাজারে হামলাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এর ফলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং সঠিক পথ অনুসরণে বাধা তৈরি হচ্ছে। একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে যদি রোগের উপশমের জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়, তাহলে একজন খোদাতালাশী বান্দা কেন তার মনের আকুতি ও প্রার্থনা আল্লাহ্র নৈকট্যপ্রাপ্ত কোনো নেক বান্দার মাজারে গিয়ে প্রকাশ করতে পারবেন না- এই প্রশ্নটি আধ্যাত্মিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার দাবি রাখে। দিশেহারা পথভ্রান্ত মানুষ ওলী বুজুর্গের সান্নিধ্যের মাধ্যমে পথের দিশা খুঁজে পেতে পারে।
মহান আল্লাহ্ পবিত্র কোরআনে নৈকট্য ও ওসিলার মাধ্যমে তাঁর সান্নিধ্য অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন। শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ছিলেন আল্লাহ্র নৈকট্যপ্রাপ্ত একজন মকবুল বান্দা- তাঁর অনুসারীদের বিশ্বাসে তাঁর হায়াতে জীবন ও পরবর্তী জীবন উভয়ই মানবজাতির জন্য কল্যাণকর ও অনুপ্রেরণাদায়ক। এককথায় বলা যায়, বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীর (ক.) পুরো জীবন ছিল দ্বীনের জন্য ও মানবতার কল্যাণে উৎসর্গীত। জাগতিক মোহ-মায়া আমিত্ব ভোগ বিলাস বিসর্জন দিয়ে তিনি আল্লাহ্র রাস্তায় সমর্পিত ছিলেন। মানবসেবাই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র ব্রত। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে আমরা পার্থিব শান্তি ও পরকালীন অনন্ত জীবনে মুক্তি পেতে পারি।

আগামী ১১ অক্টোবর রবিবার ২৬ শে আশ্বিন এই মহান অলির পবিত্র ৩৮তম বার্ষিক উরশ শরীফ যথাযথ মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে পালিত হবে। এই পবিত্র দিনে বিশ্ববাসীর জন্য নিরাপত্তা, শান্তি, সম্প্রীতি ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করছি। আমিন, বিহুরমতে সায়্যিদিল মুরসালিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।